শীত উপলক্ষে গ্রামের ঘরে ঘরে পিঠা, পায়েসসহ নানা ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরির ধুম পড়েছে। তাই জয়পুরহাটে খেজুর রস থেকে সুস্বাদু গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে পাটালি ও গুড় তৈরি করছেন তারা। শীতের কুয়াশা ভেজা ভোরে রস ভর্তি মাটির ভাড় গাছ থেকে নামিয়ে বড় তাওয়ায় দীর্ঘ সময় জ্বাল দিয়ে পাটালি ও লালি গুড় তৈরি করেন তারা। গুড়ের মান ভালো হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে এগুলো কিনতে আসেন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। আবার অনেকে আসেন খেজুরের কাঁচা রস খেতে। তবে নিপা ভাইরাসের কারণে কাঁচা রস না খেয়ে ফুটিয়ে বা গুড় করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।
জানা গেছে, শীতের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৫শ গাছি জয়পুরহাটে এসেছেন খেজুরের রস সংগ্রহ করতে। জেলার প্রায় ১৫ হাজার খেজুর গাছ ভাড়া নিয়ে রস সংগ্রহ করছেন তারা। দিনে ও রাতে দম ফেলার একদম সময় নেই তাদের। সেই রস থেকেই তৈরি করা হচ্ছে সুস্বাদু খেজুরের পাটালি ও লালি গুড়। গাছিরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোররাতের মধ্যেই গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে টিনের বড় তাওয়ায় ৩-৪ ঘণ্টা জ্বাল করেন। এরপর আরও কয়েকটি প্রক্রিয়া শেষে তৈরি করা হয় সুস্বাদু গুড়। ভেজালমুক্ত এই গুড় কিনতে দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যাপারীরা ভিড় করেন প্রতিদিন। আবার অনেকেই আসেন খেজুরের কাঁচা রস পান করতে। প্রায় ৪ মাস ধরে চলবে এই রস সংগ্রহ। চলতি মৌসুমে এ জেলায় ২০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।
রাজশাহী থেকে জয়পুরহাটের কুঠিবাড়ী ব্রিজ এলাকায় এসেছেন গাছি আনছার আলী। তিনি বলেন, ‘কার্তিক মাসে আমরা জয়পুরহাটে এসে বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গাছে হাঁড়ি লাগিয়েছি। আমরা ৫ জন মিলে ৩৫০টি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি। প্রতিদিন ৩০-৩৫ মণ রস পাওয়া যায়। এই রস থেকে গুড় উৎপাদন হয় প্রতিদিন দুই-তিনমণ।’ হেলাল নামে এক গাছি বলেন, ‘বিভিন্ন জেলা থেকে গাছিরা এসে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী ঘর করে সেখানে গুড় তৈরি করেন। রাত ৩টায় গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে বের হই। প্রতিকেজি ভালো মানের গুড় বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা। আর সাধারণ মানেরটা ২০০ টাকা কেজি দরে। পাশাপাশি খেজুরের রস বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট-বড় গুড় ব্যবসায়ীরা এসব গুড় পাইকারি দামে কিনে বিক্রি করেন।’ বেলআমলা গ্রামের আলমগীর নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘এখানে মানসম্মত গুড় ও খেজুরের রস পাওয়া যায়। এ জন্য এসে গুড় কিনলাম ও রসও খেলাম।’
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মজিবুর রহমান বলেন, ‘জেলায় এবার প্রায় ১৫ হাজার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছেন গাছিরা। শীতের সময় গুড়ের চাহিদা থাকায় বিগত বছরের চেয়ে এবার গাছির সংখ্যা বেড়েছে। এ মৌসুমে জেলায় ২০০ মেট্রিক টন গুড় উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।’