ইউএনওর বদলি ঠেকাতে অবরোধ, সেনা দেখে দৌড়

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান খানের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে বর্তমান কর্মস্থলে পুনর্বহালের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ হয়েছে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে। এ সময় বদলি আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সড়ক থেকে সরবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের থানাসংলগ্ন ট্রাফিক মোড় অবরোধ করে ‘রায়পুরের সাধারণ ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে হওয়া এই বিক্ষোভে অংশ নেন স্থানীয় সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি ও বালিকা বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এতে সড়কের দুপাশে তিন কিলোমিটার জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। তবে সড়ক অবরোধের দুই ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে ট্রাফিক মোড়ে সেনাসদস্যদের একটি দল হাজির হওয়া মাত্রই বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সটকে পড়েন।

জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের এক চিঠিতে ইউএনও ইমরান খানকে বান্দরবান সদর উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

ইউএনও ইমরানের বদলি আদেশ প্রত্যাহার করে বর্তমান কর্মস্থলে পুনর্বহালের দাবিতে অবরোধ কর্মসূচিতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান হৃদয়কে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ছাত্রদল নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে সড়কে আন্দোলনে নামিয়েছেন।

তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান হৃদয় বলেন, ‘ইউএনও ইমরান খানকে তার দায়িত্বে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা সড়কে নেমেছি। এটি যৌক্তিক দাবি। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রায়পুরের প্রতিনিধি আবদুল মোতালেব বলেন, ‘সাধারণ ছাত্র-জনতার ব্যানারে কে বা কারা অবরোধের আয়োজন করেছেন, তা জানা নেই।’

শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে আলোচনার জন্য জেলা প্রশাসক তার প্রতিনিধি হিসেবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ আরমানকে ঘটনাস্থলে পাঠান।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ আরমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কথা বলেছি। তাদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান খান বলেন, ‘বদলির আদেশ পেয়েছি। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের বিষয়টি শুনেছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্মসূচি কারা করেছেন, তাও খতিয়ে দেখা হবে।’

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সকালে ইউএনও ইমরানের অপসারণ চেয়ে এবং বিকেলে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ এনে পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। সাধারণ ছাত্র-জনতার ব্যানারে ওইদিন কর্মসূচি দুটি পালন করা হয়। ওইদিন জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়।