জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে তিন কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেল ৩টার দিকে পৌর শহরের ছনকান্দা এলাকার নদে ডুবে যায় ওই তিন কিশোরের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া তিন কিশোর পরস্পর মামাতো-ফুফাতো ভাই। তাদের স্বজনদের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদে সৃষ্ট অস্বাভাবিক গর্তে ডুবেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার সিদ্দিকুর রহমান জানান, মারা যাওয়া তিন কিশোর হলো মো. আফিফ আহম্মেদ (১৫), রাহি মিয়া (১৫) ও রৌশন (১৭)। তাদের মধ্যে আফিফ আহাম্মেদ ছনকান্দা এলাকার মো. আহামিদুর রহমানের ছেলে ও জামালপুর জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী, রাহি মিয়া একই এলাকার এজাদ মিয়ার ছেলে ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্যদিকে রৌশন একই এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে ও ঢাকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আফিফ ও রাহি রৌশনের মামাতো ভাই।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছুটিতে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে রৌশন। দুপুরের দিকে দুই মামাতো ভাই আফিফ, রাহিসহ স্থানীয় বন্ধুদের নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে ফুটবল খেলতে যায়। খেলা শেষে সবাই মিলে নদীতে গোসল করতে নামে। গোসল করতে গিয়ে পাঁচজন পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয়রা এসে দুজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওই তিনজনকে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ১ ঘণ্টা চেষ্টার পর তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। একই বাড়ির তিন ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকা শোকের মাতম চলছে।
স্বজনদের অভিযোগ, ছনকান্দা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। ড্রেজার মেশিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে অস্বাভাবিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেই গর্তের পানিতে ডুবেই ওই তিনজন মারা গেছে ।
জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, এ ঘটনায় তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া শোকাহত স্বজনদের সহায়তা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।