মহাকাশ স্টেশন স্থাপনের পথে আরও এগোল ভারত

২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করতে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারত। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ‘মহাকাশ ডকিং’ পরীক্ষা। সে পথেই আরও একধাপ এগিয়ে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) সফলভাবে তাদের স্পেস ডকিং মিশন শুরু করেছে। গত সোমবার রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টারের ‘লঞ্চিং প্যাড’ থেকে পিএসএলভি-সি ৬০ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে।

ইসরো জানিয়েছে, পিএসএলভি-সি ৬০ রকেটটির প্রধান পেলোড হিসাবে রয়েছে দুটি মহাকাশযান, স্পেডেক্স ১ (চেজার) এবং ২ (টার্গেট)। এ ছাড়া আছে ২৪টি সেকেন্ডারি পেলোড। চেজার এবং টার্গেট প্রাথমিকভাবে একে অন্যের থেকে ৫ কিমি দূরত্বে অবস্থান করবে। আগামী ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে যান দুটিকে কাছাকাছি আনার চেষ্টা চালাবেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। পৃথিবী থেকে ৪৭০ কিমি ওপরে মহাকাশে অক্ষাংশে একই বিন্দুতে দুই যানকে একত্রিত করা হবে। মহাকাশে মহাকাশচারীদের ভ্রমণে ডকিংয়ের প্রয়োজন হয়। দুটি মহাকাশযানের মধ্যে ডকিং সম্পন্ন হলে মহাকাশচারীরা স্পেস স্টেশনে প্রবেশ করতে পারেন। সেই ডকিং প্রযুক্তিই পরীক্ষা করবে এই দুই মহাকাশযান। কক্ষপথে চেজার ও টার্গেট ২৮ হাজার কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে প্রদক্ষিণ করবে। তবে ডকিংয়ের আগে তাদের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ০.০৩৬ কিমিতে নামিয়ে আনতে হবে। একই কক্ষপথে দুটি দ্রুতগতির মহাকাশযানকে যুক্ত করার এই প্রক্রিয়াই স্পেস ডকিং। বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ ও মহাকাশচারীদের স্থানান্তরের জন্য এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। অভিযান সফল হলে মহাকাশ স্টেশন নির্মাণে বড় সাফল্য পাবে ভারত।