আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি রবি মৌসুমে কক্সবাজারের চকরিয়ায় শীতকালীন আগাম সবজি চাষে ভালো ফলন পেয়েছে কৃষকরা। সরকারের কৃষি বিভাগের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে সার ও বীজ সুবিধা পেয়ে অন্তত দুই মাস আগে থেকে জমি তৈরি ও চাষ শুরু করেন কৃষকরা। ইতিমধ্যে অনেকের জমিতে উৎপাদিত রকমারি সবজি বাজারে তুলে বিক্রি করে অন্য বছরের তুলনায় এবার ভালো দাম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক কৃষক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাতামুহুরী নদীর তীরের জনপদ চকরিয়া পৌরসভার আমানচর বিলে কৃষকেরা আগাম সবজি বাজারে তুলেতে পারলে অধিক টাকা উপার্জন করা সম্ভব এমন চিন্তা মাথায় রেখে সবজি খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। জমিতে বেগুন, টমেটো, মুলা, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পেঁপে, শিম, লাউ, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, ক্ষীরাই, পালংশাক, লালশাকসহ বিভিন্ন শাকসবজি চাষ শুরু করেছে কৃষকরা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে বেগুন, টমেটো, মুলা, লাউ, ঢেঁড়সসহ আরও বেশকিছু শীতের আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। নতুন সবজি বাজারে তুলে ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি।
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের কৃষক কবির আহমদ বলেন, এক কানি জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি একসঙ্গে চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি একদফা বাজারে বিক্রিও করেছেন। ভালো দাম পেয়ে তিনি খুশি।
চকরিয়া পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড আমান পাড়ার কৃষক আবু তাহের জানান, তিনি ৬০ শতক জমিতে বেগুন ও টমেটো লাগিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছেন। এখন ওই জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি রোপণ করছেন। তার আশা শীতকালীন সবজি চাষে তিনি ভালো লাভবান হবেন।
কাকারা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিশান চৌধুরী বলেন, জুলাই মাসে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়া জমিগুলোতে পলি জমে উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন সেখানে যেকোনো বীজ রোপণ করা হলেও কিছুদিনের মধ্যে গাছ বেড়ে উঠছে, আবার অনেক এলাকায় খুব অল্পসময়ে সবজি ক্ষেতে ফলন দেখা যাচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা কষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম নাছিম হোসেন বলেন, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে কমবেশি এবং একটি পৌরসভায় চলতি রবি মৌসুমে কৃষকরা ৩ হাজার ৩৫০ জমিতে শীতকালীন আগাম সবজি চাষ করছেন। বৈরী আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমরা এ বছর রেকর্ড ফলনের সম্ভাবনা দেখছি।