দুটি ট্রেন চললেও সুফল বঞ্চিত ৩ জেলার মানুষ

গত ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে কাশিয়ানী-নড়াইল দিয়ে খুলনা ও বেনাপোল রুটে নতুন দুটি ট্রেন চালু হয়েছে। নতুন এই ট্রেন ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিলেও বঞ্চিত হয়েছে পদ্মাপাড়ের মানুষ। পদ্মাপাড়ের জেলাগুলোয় কোনো স্টপেজ না থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অথচ পদ্মা সেতুতে সবচেয়ে বেশি অবদান এই তিন জেলার মানুষের। এ কারণে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের জোরালো দাবি, দ্রুত তিন জেলার মানুষের সুবিধার্থে উভয় পাড়ে অন্তত দুটি স্টেশনে স্টপেজের ব্যবস্থা করা হোক।

ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে কাশিয়ানী-নড়াইল দিয়ে খুলনা ও বেনাপোল রুটে নতুন দুই জোড়া যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করা হয়েছে গত ২৪ ডিসেম্বর। এর মধ্যে ঢাকা-খুলনা পথে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-বেনাপোল পথে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করেছে। এ ট্রেন দুটির সাপ্তাহিক বন্ধ সোমবার। বাকি ছয় দিন চলাচল করবে। দিনে দুবার খুলনা-ঢাকা এবং ঢাকা-বেনাপোল পথে চলাচল করবে ট্রেন। খুলনার ট্রেনটি নোয়াপাড়া, সিঙ্গিয়া জংশন, নড়াইল, লোহাগড়া, কাশিয়ানী জংশন, ভাঙ্গা জংশনে বিরতি দেবে। আর বেনাপোলের ট্রেনটি যশোর জংশন, নড়াইল, কাশিয়ানী, ভাঙ্গা জংশনে বিরতি দেবে। পদ্মা সেতু হয়ে নতুন রুটে সময় লাগছে প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন এই রুটে ট্রেন চলাচলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ উচ্ছ্বসিত হলেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে পদ্মাপাড়ের মানুষের মধ্যে। কারণ মাদারীপুরের শিবচর স্টেশন, পদ্মা সেতুসংলগ্ন পদ্মা স্টেশন ও মুন্সীগঞ্জের পাড়ের স্টেশনে এ দুটি ট্রেনের বিরতি বা স্টপেজ নেই। ফলে এ দুই ট্রেনের সুফল থেকে বঞ্চিত মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জের যাত্রীরা। এ ট্রেন সার্ভিস পেতে এই তিন জেলার মানুষকে ঢাকা অথবা ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যেতে হবে। তাই রেলপথ বিভাগের দূরদর্শিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মাদারীপুরের শিবচরের যুবক মো. মারুফ বলেন, ‘আমাদের বুক ছিঁড়ে চলে গেছে এই ট্রেনলাইন। তবে কেন ট্রেন শিবচরে থামবে না। এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। তিন জেলার মানুষের সুবিধার্থে উভয় পাড়ে অন্তত দুটি স্টেশনে স্টপেজের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানাই।’

শিবচর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সেলিম হোসেন বলেন, ‘ঢাকা-খুলনা পথে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস এবং ঢাকা-বেনাপোল পথে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস নতুন রেলপথ দিয়ে চলাচল করছে। তবে মাদারীপুরের শিবচর স্টেশন, পদ্মা সেতুসংলগ্ন পদ্মা স্টেশন, মুন্সীগঞ্জের পাড়ের কোনো স্টেশনেই এ দুটি ট্রেনের বিরতি নেই। তবে যাত্রীদের চাপ বাড়লে এসব স্টেশনে স্টপেজ করবে বলে আমি মনে করি।’

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া বলেন, ‘সব স্টেশনে থামবে এ রকম ট্রেন আমরা শিগগিরই চালু করব। তাছাড়া এখন যে ট্রেন চালু আছে সেই ট্রেন সব স্টোশনে থামবে না। সব স্টেশনে থামার ট্রেনই আলাদা। তবে শরীয়তপুর-মাদারীপুরে থামবে এমন ট্রেন শিগগিরই চালু করার চেষ্টায় আছি।’