টিটিপি পুনর্বাসনে পাকিস্তানের কাছে ৩৫ মিলিয়ন ডলার দাবি ‘ভিত্তিহীন’: তালিবান 

তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের পুনর্বাসন ও স্থানান্তরের জন্য পাকিস্তানের কাছে ১০ বিলিয়ন রুপি (৩৫ মিলিয়ন ডলার) চেয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে তা ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে তালিবান।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) আমু টিভির সঙ্গে এক কথোপকথনে তালিবানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তালিবান পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো আলোচনা বা চুক্তিতে পৌঁছায়নি।

আফগানিস্তানে টিটিপির উপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে এই প্রত্যাখ্যান এসেছে। তালিবান আনুষ্ঠানিকভাবে টিটিপি যোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও জাতিসংঘের একটি পর্যবেক্ষণ গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে এই গোষ্ঠীর প্রায় ৬ হাজার যোদ্ধা রয়েছে।

সম্প্রতি জিও নিউজকে খাজা আসিফ বলেন, কাবুল সফরের সময় এক বা দুই বছর আগে তহবিলের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুব, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি এবং উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা শিরিন আখুন্দসহ তালিবানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় বলে জানান তিনি।

‘তারা বলেছিল টিটিপিকে তাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলির একটিতে পুনর্বাসিত করবে, কিন্তু তারা এর জন্য এক হাজার কোটি রুপি চেয়েছিল,’ আসিফ বলেছিলেন। ‘আমি তাদের বলেছি— যদি আপনি তাদের থামাতে না পারেন তবে আমাদের নিজেদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তারপরে আপনার অভিযোগ করা উচিত নয়।’

আসিফের মতে, তিনি তালিবানদের কাছ থেকে গ্যারান্টি চেয়েছিলেন, তবে কোনো স্পষ্ট আশ্বাস পাননি। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের এক হাজার কোটি রুপি দাবি প্রত্যক্ষ করেছি। ‘যখন আমি গ্যারান্টি চেয়েছিলাম যে টিটিপি ফিরে আসবে না এবং আবার সমস্যা তৈরি করবে না, তখন তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া ছিল না।’

এই অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন আফগান পর্যবেক্ষকরা। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্সির সাবেক মুখপাত্র সাদিক সিদ্দিকি পাকিস্তান ও তালিবান উভয়কেই বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদকে টিকিয়ে রাখার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের জন্য পাকিস্তান ও তালিবানকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে,’ বলেন সিদ্দিকি।

ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক সামি ইউসুফজাই তালিবান ও টিটিপির মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। ইউসুফজাই বলেন, টিটিপির সঙ্গে তালিবানের মতাদর্শগত, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। টিটিপি ন্যাটোর বিরুদ্ধে তালিবানের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, নিরাপদ আশ্রয় এবং সংস্থান সরবরাহ করেছিল। এই ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আজও অব্যাহত রয়েছে।

টিটিপি নিয়ে বিরোধ পাকিস্তান ও তালিবানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় টিটিপি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়।

তবে জাতিসংঘ ও তালিবান উভয়ই জানিয়েছে যে এই হামলার ফলে নারী ও শিশুসহ বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছে। তালিবান এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নিহত বা আহতরা সবাই বেসামরিক।