ফতুল্লা

ফ্যানে ঝুলছিল গৃহবধূর লাশ, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই পলাতক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় লামিয়া আক্তার ফিজি (২১) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাত ৮টায় লামাপাড়া নয়ামাটি এলাকার মনিরুল ইসলাম মনুর মালিকানাধীন ভবনের দোতলার ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

লামিয়া আক্তার ফিজি ফতুল্লার দেওভোগ বাশমুলী এলাকার মীর মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। পরিবারের দাবি, লামিয়াকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে।

লামিয়ার বড় ভাই আরাফাত বলেন, করোনাকালে লামিয়ার সঙ্গে লামাপাড়া নয়ামাটি এলাকার মনু মোল্লার ছেলে মুন্না মোল্লার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মুন্না তার প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন রেখে নিজেকে ব্যবসায়ী দাবি করেন। বিয়ের পর লামিয়া জানতে পারেন মুন্নার স্ত্রী আছে এবং সে বেকার। এরপর থেকে লামিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের বিষয়টি সালিশ থেকে থানা পর্যন্ত গড়ায়। এর মধ্যে তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান হয়। ছেলেটির বয়স এখন দুই বছর।

আরাফাত আরও বলেন, সালিশ করে লামিয়াকে স্বামীর ঘরে দিয়ে আসলে কয়েকদিন ভালো কাটে। এরপর আবার নির্যাতন শুরু করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত রয়েছে। সন্তানের কথা চিন্তা করে লামিয়া দিনের পর দিন নির্যাতন সহ্য করেছে। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে ওরা স্বপরিবারে পালিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই ইমানুর রহমান বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। নিহতের স্বামীসহ তার পরিবারের সকলেই আত্মগোপনে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’