অনভিজ্ঞকর্মীর মাশুল চালক-যাত্রীর

টোলপ্লাজায় লেগে থাকা যানজটের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরাকান মহাসড়কের কর্ণফুলী তৃতীয় সেতুটি (শাহ আমানত সেতু) এখন লাখো মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি গাড়ির টোলপ্লাজা পার হতে ২০ মিনিটের বেশি সময় লাগছে। এতে সেতুর দুই প্রান্তেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গাড়িগুলোর চালক ও যাত্রীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টোল আদায়ে ধীরগতি, অব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন অবৈধ যানবাহনের চাপই অসহনীয় এ যানজটের কারণ। অবশ্য যানজট কমাতে আরও দুটি টোল লেন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তবে অভিযোগ রয়েছে, নতুন ও অনভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে টোলপ্লাজা পরিচালনার কারণেই যাত্রীদের এ দুর্ভোগ।

২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কর্ণফুলী তৃতীয় সেতু (শাহ আমানত সেতু) চালু হয়। টোলপ্লাজায় তিনটি করে উভয়দিকে ছয়টি লেন নিয়ে সেতুর কার্যক্রম শুরু হয়। সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিক হওয়ায় তিন বছর আগে টোলপ্লাজার দুপাশের অযান্ত্রিক যান চলাচলের জন্য রাখা ফ্রি টোল লেন দুটির পরিসর বাড়িয়ে ছোট যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়। এরপর থেকে বর্তমানে সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় দুপাশে চারটি করে আটটি বুথ রয়েছে। তারপরও প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সপ্তাহের অন্য দিনেও লেগে থাকে যানজট। সরেজমিনে গত মঙ্গল ও বুধবার দেখা গেছে, টোলপ্লাজার উভয় পাশে আধা কিলোমিটারের বেশি জায়গা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছে অ্যাম্বুলেন্সসহ যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী অসংখ্য যানবাহন।

সওজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কর্ণফুলী সেতুতে ফাস্ট ট্র্যাক (টোল কালেকশন সিস্টেম) পদ্ধতি চালু করা হয়। নগদহীন টোল সংগ্রহ ও টোল গেটে যানজট নিরসনের জন্য এ পদ্ধতি। কিন্তু উদ্বোধনের কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় এ পদ্ধতি। ফলে টোলপ্লাজার সামনে প্রতিনিয়তই দীর্ঘ যানজট। এরই মধ্যে যুক্ত হয়েছে অনভিজ্ঞ ও নতুন টোল আদায়কারী। যার কারণে প্রায় প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ সড়কে যাতায়াতকারী হাজারো পর্যটক ও যাত্রীদের।

ট্রাফিক বিভাগের অভিযোগ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের আধিক্যও যানজট বাড়াচ্ছে। তবে চালক ও যাত্রীরা বলছেন, অনভিজ্ঞ ও নতুন টোল আদায়কারীদের কাজের ধীরগতিই যানজটের মূল কারণ।

গাড়িচালক নুরুল আলম বলেন, ‘আনোয়ারা থেকে জ্যাম ছাড়া এলাম। এখানে এসে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি নিয়ে আটকে আছি। টোল আরও দ্রুত আদায় করা উচিত।’

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক আবদুল মোতালেব বলেন, ‘টোল আদায় দ্রুত করা গেলে এই জট অনেকটাই কমে যেত। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষের টোল আদায়ের অব্যবস্থাপনা আর ধীরগতি আমাদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ (টিআই) আবু সাঈদ বাকার বলেন, ‘সম্প্রতি এ রুটে যানবাহনের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়েছে। আমাদের ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে। তবুও গাড়ির চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

টোলপ্লাজার ইজারাদার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কোম্পানি সেল-ভ্যান জেভির ব্যবস্থাপক সুমন ঘোষ বলেন, ‘বর্তমানে কর্ণফুলী সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৭ হাজারের বেশি গাড়ি চলাচল করছে। ছুটির দিনে চাপ আরও বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।’

সড়ক ও জনপথ (সওজ) চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘যানজট নিরসনে টোলপ্লাজার দুপাশে আরও দুটি লেন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই কাজ শুরু হবে।’