ইসলামে নারীর মর্যাদা

ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে নারী ছিল অবহেলিত, নির্যাতিত ও নিপীড়িত। নারী ছিল শুধু ভোগ্যপণ্য। যখন যেভাবে ইচ্ছা নারীকে ব্যবহার করা হতো। পরিবার বা সমাজে নারীদের ন্যূনতম মর্যাদা ছিল না। সে যুগে কন্যাসন্তানের জন্ম হওয়াকে তারা অমর্যাদাকর ও চরম লজ্জাজনক মনে করত। নারীকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করত। তাদের অধিকার বলতে কিছু ছিল না। কিন্তু মানবতার মুক্তির দূত সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) এসে নারীদের যথাযোগ্য সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করেন।

রাসুল (সা.)-এর আবির্ভাবের পূর্বে যে ঘরে কন্যাসন্তান জন্ম হতো, সে ঘরটা যেন জাহান্নামে পরিণত হয়ে যেত। কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। যুগ যুগ ধরে কন্যাসন্তানের ব্যাপারে মানুষের মনে যে খারাপ ধারণা ছিল, মানুষ যেখানে কন্যাসন্তানের বাবা হওয়াকে অপমানজনক মনে করত, সেখানে ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে সমাসীন করেছে। সাধারণ আরব লোকদের মধ্যে একটি প্রথা ছিল যে, স্ত্রীরা যদি কোনো ভুল-ত্রুটি করত তবে তাদের মারধর করা হতো। রাসুল (সা.) যখন বিষয়টা জানতে পারলেন, তখন তিনি বললেন, নারীরা আল্লাহর বান্দী, তোমাদের না। তাদের কখনোই মারধর করবে না। রাসুল (সা.) আরও বলেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীদের সহিত ভালো ব্যবহার করে না কিংবা তাকে মারধর করে, তার সম্পর্কে আমি তোমাদের বলে দিচ্ছি যে, সে আল্লাহর দৃষ্টিতে সৎ বলে বিবেচিত হবে না। এ ঘোষণার পর নারীর অধিকার রীতিমতো প্রতিষ্ঠিত হয়। (আবু দাউদ) এভাবেই সমাজব্যবস্থার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয় ইসলাম। ইসলামে নারীর মর্যাদা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা হলো।

কন্যা হিসেবে নারী : কন্যা হিসেবে নারীর মর্যাদা অনেক। ইসলাম কন্যাসন্তানদের প্রতি দয়া করা, তাদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া, আদর-যত্ন সহকারে লালন-পালন করা এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে নেককার নারী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, কোনো ব্যক্তির যদি একজন কন্যাসন্তান থাকে এবং সে তাকে হত্যা না করে, কোনো প্রকার অবহেলা না করে এবং পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তানের ওপর প্রাধান্য না দেয়, তবে আল্লাহতায়ালা তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (মুসনাদে আহমদ)

মা হিসেবে নারী : একজন নারী যখন মা হয়, তখন তাকে বিশেষ সম্মান ও অধিক মর্যাদা দেওয়ার জন্য ইসলাম নির্দেশ দেয়। রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! সবচেয়ে বেশি ভালো ব্যবহার পাওয়ার উপযুক্ত লোকটি কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি আবারও বলল, তারপর কে? তিনি বললেন, তোমার পিতা। (সহিহ বুখারি)

স্ত্রী হিসেবে নারী : একজন নারী যখন কারও স্ত্রী হয়, তখন তাকে স্ত্রী হিসেবে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া ও তার যাবতীয় অধিকারকে অক্ষুণœ রাখার জন্য স্বামীদের নির্দেশ দেয় ইসলাম এবং স্বামীর ওপর তার কিছু অধিকার বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়। একজন স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণের কথাও বলা হয়েছে। অহেতুক তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করা। তাদের ব্যবহারের ওপর ধৈর্যধারণের কথাও বলা হয়েছে। ইসলাম ঘোষণা করে যে, তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম ব্যক্তি, যে তার পরিবার তথা স্ত্রীর নিকট উত্তম।

ফুফু, খালা, বোন হিসেবে নারী : ইসলাম ফুফু, খালা ও বোনদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার, তাদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করা এবং তাদের অধিকার রক্ষা করার জন্য নির্দেশ দেয়। তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার ও তাদের সহযোগিতা করার কারণে তাদের অনেক সওয়াবেরও বিনিময় দেওয়ার কথাও রয়েছে। এভাবেই সব ক্ষেত্রে নারীর অধিকার ইসলাম দিয়েছে।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমাদের মা, বোন, স্ত্রী, কন্যা, ফুফু, খালাসহ সবার অধিকার যথাযথভাবে প্রদান করার তওফিক দান করুন। আমিন।