খাগড়াছড়িতে পরীক্ষামূলকভাবে শীত প্রধান দেশের ফুল লিলিয়ামের চাষ শুরু করে সফলতা পেয়েছেন উদ্যোক্তা সাথোয়াই মারমা। এখন কন্দ সংরক্ষণ করে চারা তৈরির পরীক্ষণে সফলতা মিললে বাণিজ্যিক চাষাবাদে যাওয়ার কথা ভাবছেন এই উদ্যোক্তা। বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বলেছেন পাহাড়ের এই ফুল চাষের জন্য উপযোগী।
নেদারল্যান্ডের ফুল লিলিয়াম চাষ করে সফলতা পেয়েছেন খাগড়াছড়ির শৌখিন এক ফুল সংরক্ষক। কন্দ রোপণের মাত্র দেড় মাসের মাথায় কমলা রঙের মিষ্টি ঘ্রাণের লিলিয়াম ফুটছে। খাগড়াছড়ি শহরের মহিলা কলেজ এলাকায় বেসরকারি একটি কোম্পানির সহযোগিতায় পরীক্ষামূলক ভাবে ২শ কন্দ দিয়ে এশিয়াটিক লিলিয়ামের চাষ করেন শৌখিন ফুল সংরক্ষক ও উদ্যোক্তা সাথোয়াই মারমা। প্রথম পর্যায়ে সফলতা আসার পর এখন কন্দ সংরক্ষণ করে চারা তৈরির পরীক্ষণের কথা বলছেন এ উদ্যোক্তা। তাতে সফলতা মিললে বাণিজ্যিকভাবে লিলিয়ামের চাষ করার কথা ভাবছেন তিনি।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে লিলিয়ামের কন্দ রোপণের পর নিয়মিত পরিচর্যায় গেল কয়েক সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন ফুটছে ফুল। যা দেখতে এসে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীরা বলেছেন দুর্লভ এই ফুল দেখে তারা খুশি। এই জন্য যিনি এই ফুল চাষ করেছেন তাকে ধন্যবাদও জানান দর্শনার্থীরা।
উমেশ ত্রিপুরা, নার্সারি লেবার, তিনি জানান দুই দুর্লভ ফুলের কন্দ নিজে লাগাতে পেরে তিনি খুশি।
উদ্যোক্তা সাথোয়াই মারমা, জানান এই ফুলটি বাংলাদেশে প্রথম এশিয়াটিক লিলিয়াম, তাদের কোম্পানি নেদারন্যান্ড থেকে এ কন্দ টা নিয়ে এসেছে। আর পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথম এটা তারা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে লাগিয়েছেন, এই ফুলের সুগন্ধি আছে, তিনি আশা করে পার্বত্য চট্টগ্রামে এই ফুল চাষ করে অথনৈতিক ভাবে লাভবান হবেন।
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মালেক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে লিলিয়ামের স্বল্প পরিসরে চাষ শুরু হয়েছে, আর আশার কথা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে লিলিয়ামের দুটি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে যার একটি হলুদ অন্যটি সাদা, অর্থাৎ বারি লিলিয়াম-১ ও বারি লিলিয়াম-২ নামে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামে চাষের উপযোগী এবং এই ফুলগুলো চাষ করলে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি লিলিয়াম ফুলের চাহিদা পূরণ করেতে পারবেন।