শিশুদের হতে পারে গ্লুকোমা

শিশুদেরও জন্মগতভাবে গ্লুকোমা হতে পারে। আর সচেতন না থাকলে এই গ্লুকোমা থেকে শিশু অন্ধ হয়ে যায়। চোখের প্রেশার (চাপ) বৃদ্ধিজনিত কারণকে গ্লুকোমা বলে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি হয়। অনেকেরই ধারণা, গ্লুকোমা বয়সোর্ধ্বদের রোগ। আসলে এটা ভুল ধারণা। শিশুর গ্লুকোমা হলে, দেরি না করে তখনই অস্ত্রোপচার করে নিলে স্থায়ীভাবে তার দৃষ্টিহানি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

কেন হয়

মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময় শিশুর চোখের যে বৃদ্ধি হওয়ার কথা, যদি কোনো কারণে সেই বৃদ্ধি না হয়, কোনো কারণে চোখের পানির যদি পরিবহন না হয়, অর্থাৎ পানি যদি বেরিয়ে না যেতে পারে, সেটি জমা থাকলেই প্রেশার বৃদ্ধি পাবে। আর ছোটবেলায় যেহেতু সবকিছু থাকে নরম, তখন এটি বড় হয়ে যায়। আর বড় হতে থাকলে তার দৃষ্টিতে তো বিষয়টি অবশ্যই প্রভাব ফেলবে। সাধারণত অ্যাঙ্গেল দিয়ে চোখের পানিটি পরিবহন করতে পারে না। এতে গ্লুকোমা হয়।

কীভাবে বুঝবেন শিশুর গ্লুকোমা

শিশুর চোখ দিয়ে পানি পড়ে, সরাসরি আলোর দিকে তাকাতে পারে না। চোখের মণি ঘোলা হয়ে যায়। শুরুতে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তখন অবহেলা না করে অবশ্যই চক্ষু ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সমস্যা বাড়তে থাকলে অনেক সময় দেখা যায় চোখের মণিটা বড় হয়ে গেছে, চোখ অনেক বড় হয়ে গেছে। চোখের যখন প্রেশার বাড়ে, চোখের যে নালিটা মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযুক্ত, সেই নালিতে চাপ পড়ে, সেটিও তখন নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হলে স্থায়ীভাবে অন্ধত্বের দিকে চলে যায়। যখনই কোনো বাচ্চার চোখ দিয়ে পানি পড়বে, কালো মণি ঘোলা হবেÑ তখন ধারণা করতে হবে, বাচ্চার চোখের প্রেশার বৃদ্ধি পেতে পারে। তখন দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

করণীয়

অস্ত্রোপচারের আগে শিশুর কর্নিয়ার ডায়েমিটারটা চেক করা হয়। তারপর আবার চোখের প্রেশার মেপে দেখা হয়। প্রেশার মেপে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের সমস্যার একমাত্র চিকিৎসাই হলো অস্ত্রোপচার করে নেওয়া। যেহেতু রাস্তা তার পুরো বন্ধ, তাই অস্ত্রোপচার অবশ্যই করতে হবে। অস্ত্রোপচার করলে ভয়ের কিছু নেই। যখন অস্ত্রোপচার করা হয়, পানি যখন বের করে দেওয়া হয়, সঙ্গে সঙ্গে মণিটা স্বচ্ছ হয়ে যায়। এরপর অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। তবে নিয়মিত ফলোআগের প্রয়োজন হবে। যাতে দৃষ্টির কোনো সমস্যা হবে না। অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহ পরে, এক মাস পরে, তিন মাস পরে ফলোআপের দরকার হয়। প্রতি ফলোআপেই চোখের প্রেশার মাপা এবং কর্নিয়াল ডায়েমিটারটি চেক করতে হয়।

কেন অস্ত্রোপচার জরুরি

প্রেশার বেশি থাকার কারণে কালো মণিটা ঘোলা হয়ে যায়, যদি সঠিক সময়ে এই প্রেশারটি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, অস্ত্রোপচার না করা হয়, মণিতে সমস্যা হয়। এতে আলো ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। চোখ বড় হয়ে গিয়ে তার পাওয়ার মাইনাস হয়ে যাবে; মায়োপিয়া হয়ে যাবে। এরপর তার লেন্সে সমস্যা দেখা দেবে। তার রেটিনাতে সমস্যা দেখা দেবে। যে স্নায়ু দিয়ে পানি যায় সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। সুতরাং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অস্ত্রোপচার করতে হবে।