কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতকালীন সবজি চাষে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। কিন্তু কৃষি প্রণোদনার সরকারি বরাদ্দে বিনামূল্যের সার ও বীজ প্রকৃত
কৃষকরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম শুরু হলে উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত কৃষকরা এমন অভিযোগ করেন।
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বেশিরভাগ প্রকৃত ও দরিদ্র কৃষকই প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত। উপজেলা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাদের সিন্ডিকেটের লোকজন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নামের তালিকা তৈরি করে। এরপর প্রণোদনার সার-বীজ উত্তোলন করে কম টাকায় ডিলারদের কাছে বিক্রি করে। পরে প্রকৃত কৃষকরা ডিলারদের কাছ থেকে চড়া দামে সেগুলো কিনে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
পৌরসভার হোমনাকান্দা এলাকার কৃষক ফজলুল হক জানান, মাঠপর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তাদের অনিয়মের কারণে প্রকৃত কৃষকরা সার, বীজ ও প্রণোদনা পাচ্ছেন না। মাঠ কর্মকর্তাদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত কৃষকরা কৃষি অফিসের আওতায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে সব সময় বঞ্চিত। মাঠ কর্মকর্তারা প্রতিবছর ঘুরেফিরে তাদের পছন্দের লোকদের তালিকাভুক্ত করে সার, বীজ ও কৃষি প্রণোদনা দিচ্ছেন।
কারারকান্দি গ্রামের কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় ৬০ শতাংশ জমি চাষ করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কৃষি অফিসের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাইনি। কৃষি অফিসের লোকদের সঙ্গে যাদের ভালো সম্পর্ক, তারাই সব সময় সরকারি প্রণোদনা পায়।’ চুনারচর গ্রামের কৃষক মান্নান মিয়া বলেন, ‘সবজি চাষে সমস্যা লেদা পোকা। শীতের সবজি ফুলকপি, বাধাকপি, লালশাক, পালংশাক, মুলাসহ বিভিন্ন সবজির চারা খেয়ে ফেলছে এ পোকা। কিন্তু কৃষি অফিস কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রণোদনার বরাদ্দ বিএডিসি থেকে সরবরাহ করে থাকে। আমরা তালিকা করে শুধু বিল-ভাউচার সমন্বয় করছি। তবে কেউ যদি অনিয়ম করে প্রকৃত কৃষকদের সার, বীজ ও প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, ‘খাদ্য সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে প্রণোদনা বিতরণ করা হচ্ছে। এতে কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’