পরকীয়া প্রেমের ‘বাধা’ ৬ মাসের শিশুকে হত্যা

ফুটফুটে শিশুটির বয়স মাত্র ৬ মাস। নাম আমেনা। শিশুটিকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে তার মা ও মায়ের প্রেমিক। এর আগে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়ে অচেতন করা হয়। এরপর বালিশ চাপা দিয়ে ও গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর বিছানার চাদর দিয়ে শিশুটির লাশ মুড়িয়ে কাপড়ের একটি শপিং ব্যাগে ঢুকানো হয়। এরপর ওই ব্যাগ মেট্রোরেলের একটি পিলারের কাছে ফেলে আসা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির মা ফাতেমা বেগম (২৫) ও তার প্রেমিক মো. জাফরকে (৩৬) গত শুক্রবার রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিছে পুলিশ।

গত ৬ ডিসেম্বর দুপুর ৩টা ১০ মিনিটের দিকে রাজধানীর দিয়াবাড়ির মেট্রোরেলের ১২৪ নম্বর পিলার সংলগ্ন লেকপাড় থেকে একটি ব্যাগের মধ্যে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে পল্লবী থানা-পুলিশ।

গতকাল শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্লবী থানার ওসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় পুলিশ দেখতে পায় গলায় আঘাতের দাগ রয়েছে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে তদন্তে নামে। পুলিশ নিশ্চিত হয় শিশুটির নাম আমেনা ও তার বয়স ৬ মাস। পরে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন, নিবিড় তদন্ত ও ফাতেমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, মো. জাফর নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে শিশুটির মা ফাতেমা বেগমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে শিশু হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। ওই রাতেই জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনেই বিবাহিত এবং পল্লবী এলাকায় বসবাস করেন। জাফর একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। শিশুটির মা ফাতেমা আগে ওই গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে জাফরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ফাতেমার স্বামী গ্রিলের মেকানিক হিসেবে কাজ করেন। স্বামী কাজের সূত্রে বাসার বাইরে থাকার সুযোগে ফাতেমা দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিল। তাদের মধ্যে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক হতো। গত ৫ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে জাফর ফাতেমার বাসায় আসে। ওই দিন শিশুটিকে প্রথমে স্যুপের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে বালিশ চাপা দিয়ে ও গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।