ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, কুরস্ক অঞ্চলে লড়াইয়ে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এর আগে গত আগস্টে ব্যাপক হামলার পর রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় এ এলাকাটি দখল করে ইউক্রেনীয় বাহিনী। ইউক্রেন ও পশ্চিমাদের দাবি, কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ১১ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। খবর রয়টার্স।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) রাতে এক ভিডিওতে জেলেনস্কি ইউক্রেনের শীর্ষ কমান্ডার ওলেকসান্দার সিরস্কির একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেন সীমান্তের অদূরে মাখনোভকা গ্রামের কাছে এই যুদ্ধ হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘কুরস্ক অঞ্চলের মাখনোভকা গ্রামের কাছে লড়াইয়ে রুশ সেনাবাহিনী উত্তর কোরিয়ার পদাতিক সৈন্য ও রুশ প্যারাট্রুপের একটি ব্যাটালিয়ন হেরে গেছে।’ তবে প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এদিকে রয়টার্স এ ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
জেলেনস্কি গত সপ্তাহে কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ানরা বন্দী হওয়া এড়াতে চরম ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বাহিনী দ্বারা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি তার সর্বশেষ বক্তব্যে আরও বলেন, পোকরোভস্ক শহরের কাছে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পুরো এক হাজার কিলোমিটার (৬২০ মাইল) ফ্রন্ট লাইনে ‘ভয়াবহ লড়াই’ চলছে। তিনি বলেন, রুশ বাহিনী আক্রমণে নিজেদের বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করে রেখেছে।
এর আগে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছিলেন, পোকরোভস্ক এখনও উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্র, রুশ সেনারা শহরটিকে দক্ষিণ দিক থেকে বাইপাস করতে এবং ইউক্রেনের সেনাদের সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টায় নতুন করে হামলা চালাচ্ছে।
ইউক্রেনের এক সময়ের বিশাল ইস্পাত শিল্পে কোকিং কয়লার একমাত্র সরবরাহকারী খনি ছিল কুরস্কে। শহরটিতে যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০ হাজার ইউক্রেনীয় বসবাস ছিল। তবে ইউক্রেনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১১ হাজার মানুষ শহরটিতে রয়েছে।