সিলেটে জ্বললেন তামিম, রাজশাহীকে হারাল বরিশাল

এবারের বিপিএলের একদম প্রথম ম্যাচে দুর্বার রাজশাহীর অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে করেছিলেন ৫১ বলে ৬১ রান। নিজেই ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, তার লক্ষ্য ছিল দলীয় ১৬০ রান। উইকেট ভালো এটা বুঝতে সময় লেগেছে।

অথচ সিলেটে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচে উইকেটটা যে ভালো ছিল, সেটা বোঝার জন্য বিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। একই দিনে আগের ম্যাচেই ৩১টি ছক্কা হয়েছে, ২০০-এর বেশি রান তাড়া করে জিতেছে পরে ব্যাট করা দল। এমন উইকেটে বিজয়ের ৩৫ বলে ৩৯ রানের ইনিংসই রাজশাহীকে দুর্বার না করে দুর্বল করেছে।

টসে হেরে আগে ব্যাট করে রাজশাহী করেছে ৪ উইকেটে ১৬৮ রান। তামিম ইকবালের হাফসেঞ্চুরিতে এই রানটা সাবলীলভাবেই টপকে গেছে ফরচুন বরিশাল।

রাজশাহীর ছয়জন ব্যাটসম্যান সুযোগ পেয়েছিলেন, প্রত্যেকেই দুই অঙ্কের রানে গেছেন কিন্তু কেউই হাফসেঞ্চুরি পাননি। আগের দুই ম্যাচে সুবিধা করতে না পারা জিশান আজ ভালো শুরু পেয়েছিলেন। আরেক প্রান্তে মোহাম্মদ হারিসও বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তাতে উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায় রাজশাহী। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৩০ রান।

তিনে নামা অধিনায়ক এনামুল হক দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেছেন। তবে ৩৯ রান করতে তিনি খেলেছেন ৩৫ বল। এক প্রান্তে ইয়াসির-জিশান আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও আরেক প্রান্তে ধীরগতির ব্যাটিং করেছেন বিজয়। সময়ের সঙ্গে গিয়ার পরিবর্তন করতে পারেননি তিনি। ২৩ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন ইয়াসির আলী। আর ওপেনিংয়ে নামা জিসান আলমের ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান। এ ছাড়া মোহাম্মদ হারিস ২২ রান করে আউট হন। রায়ান বার্ল ১১ বলে ১০* আর আকবর আলী করেন ৯ বলে ১৫*।

এদিকে আফ্রিদি-আশরাফরা দারুণ বোলিং করেছেন। ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। আরেক পাকিস্তানি বোলার ফাহিম আশরাফ ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। একটি উইকেট পেয়েছেন তানভীর ইসলামও।

রাজশাহীর মাঝারি পুঁজি নিয়ে লড়াইটা জমাতে পারেননি বোলাররা। একা তাসকিন একপ্রান্তে রান আটকেছেন, নিজের প্রথম ২ ওভারে দিয়েছেন মোটে ৮ রান। 

অন্যদিকে রানের বন্যায় ভেসে গেছেন মোহর শেখ। নিজের প্রথম ২ ওভারে দিয়েছেন ৩২ রান। যদিও নিয়েছেন প্রীতম কুমার এবং কাইল মায়ার্সের উইকেট। তবে ছোট পুঁজির ম্যাচে মায়ার্সের ১১ বলে ২৪ রানের ইনিংসটাই একটা ছন্দ তৈরি করে দেয় বরিশালের জন্য।

তামিমের জন্য পরিস্থিতি ছিল আদর্শ। রানটা সাধ্যের মধ্যে উঁচু স্ট্রাইক রেটে খেলার তাড়া নেই। বিপিএলের এই মৌসুমের প্রথম হাফসেঞ্চুরিটা সহজেই পেয়ে গেছেন তামিম। ২৮ বলে পৌঁছেছেন ৫০ রানে, হাঁকিয়েছেন ৮ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কা। অন্যদিকে মায়ার্স এবং তাওহীদ হৃদয় দীর্ঘস্থায়ী না হলেও পেয়েছেন বন্ধু ও দীর্ঘদিনের সতীর্থ মুশফিককে। দুজনে মিলেই বরিশালের লঞ্চ নিরাপদে ভিড়িয়েছেন জয়ের বন্দরে।