রাজধানীর পিলখানায় ২০০৯ সালে বিডিআর (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) হত্যাকাণ্ড পুনঃতদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন ভারতে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করবে। গতকাল রাওয়া ক্লাবে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পর কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) এ এল এম ফজলুর রহমান এ তথ্য জানান।
ফজলুর রহমান বলেন, ‘সন্দেহভাজনদের সঙ্গে, বিশেষ করে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে আমরা কথা বলার চেষ্টা করব। এ বিষয়ে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বা আমাদের জন্য আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য সরাসরি উপায়ে যোগাযোগ করব। ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে প্রত্যর্পণের আবেদন করব, অথবা আমাদের টিম সেখানে গিয়ে তার সাক্ষাৎকার নেবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটা বলাই যথেষ্ট নয় যে বিডিআর হত্যাকাণ্ড স্থানীয় বা বিদেশিদের মাধ্যমে ঘটেছে। ভারত জড়িত আছে বলা হলেও এর পক্ষে প্রমাণ দিতে হবে। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের অনেক প্রমাণ গত ১৬ বছরে ধ্বংস হয়েছে। তবে এখন যা কিছু করা হবে, তা উন্মুক্ত থাকবে। তিন মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার চেষ্টা থাকবে। তবে প্রয়োজন হলে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হবে। ‘কমিটির উদ্দেশ্য হলো সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।’
জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্তে নিরপেক্ষ থাকবে বলে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘ছোট-বড় সব ধরনের প্রমাণ গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হবে।’
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত লে. কর্নেল লুৎফর রহমানের মেয়ে ফাবিয়া বুশরা বলেন, আর্মি অফিসার নামেই সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছে। ১৬ বছর আগে ইসরায়েলি বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে বিডিআর হত্যাকাণ্ড। নৃশংস বলতে যা বোঝানো হয়, তার কতটা বুঝতে পারবে কমিশন। আবেগ দিয়ে বিজনেস নয়, বিডিআর হত্যাকাণ্ড ন্যাশনাল নয় বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক ঘটনা।