বিছানায় কাতরাচ্ছেন গুলিবিদ্ধ বাপ্পি

গাজীপুরের শ্রীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কর্মসূচিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে এখনো বিছানায় কাতরাচ্ছে বাপ্পি (১৬) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব পরিবারটির মেলেনি কোনো সরকারি সহায়তা। টাকার অভাবে প্রায় বন্ধ বাপ্পির চিকিৎসা।

বাপ্পি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার তললী গ্রামের মোজাম্মেলের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের জহিরুল ইসলাম প্রিন্সের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় শ্যামা মডেল একাডেমির নবম শ্রেণিতে পড়ত বাপ্পি। বাপ্পির বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার পরিবারের সঙ্গে। এ সময় পরিবারের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন তার বাবা। স্থানীয়রা জানান, গত আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন আন্দোলনে প্রথম সারিতে অংশ নেয় বাপ্পি। গত ৩ আগস্ট গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় ছাত্রজনতা। এ সময় কেওয়া বকুলতলা এলাকায় পুলিশের ছোড়া বুলেট বাপ্পির কোমরে বিদ্ধ হয়। বুলেটের আঘাতে বাপ্পির নাড়িভুঁড়ির ৭টি জায়গাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। করা হয়েছে কয়েকটি অস্ত্রোপচার। তখন কেটে ফেলা হয় পায়ুপথও। পরবর্তী সময়ে টাকার অভাবে প্রায় বন্ধ রয়েছে চিকিৎসা। বর্তমানে সিএমএইচ-এর চিকিৎসকের পরামর্শে আছে সে।

বাপ্পির বাবা মোজাম্মেল বলেন, ‘ইতিমধ্যে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই টাকার বেশির ভাগই আমার ব্যবসার মূলধন ও স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ বাবদ নেওয়া। এখন ঋণের টাকার চাপ ও ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার শরীরে পচন ধরে গেছে। অভাবের কারণে চিকিৎসা করতে পারছি না। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার টাকা বাকি রয়ে গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাকি টাকার জন্য মামলার হুমকি দিচ্ছে।’

বাপ্পির অসহায়ত্বের কথা শুনে সম্প্রতি তাকে দেখতে যান কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। এ সময় নগদ অর্থ প্রদানসহ চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। বাড়ির মালিক পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দপ্তর সম্পাদক প্রিন্স আহত বাপ্পির ঘর ভাড়া বকেয়া ৭০ হাজার টাকা মওকুফ করে দেন।