গাইবান্ধায় বর্তমানে দুই টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ফুলকপি। অনেকে এ দামেও বিক্রি করতে না পেরে খাওয়াচ্ছেন গরুকে। সবজির ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি থেকে পাইকারি পর্যায়ে এক কেজি ফুলকপি দুই টাকা দরে বিক্রি করছেন তারা। অথচ একটি ফুলকপি চাষ করতে তাদের কেজিপ্রতি খরচ হয়েছে অন্তত পাঁচ টাকা থেকে সাত টাকা। চড়া দামে সার, বীজ, কীটনাশক কিনে তারা সবজি চাষ করেছেন। অথচ দুই সপ্তাহ ধরে শীতকালীন সব সবজির দামে ধস নেমেছে। এতে কম দামে সবজি বিক্রি করে উৎপাদন খরচই উঠছে না চাষিদের। এতে পুঁজি হারিয়ে দিশাহারা অবস্থা হয়েছে তাদের।
সাদুল্লাপুর উপজেলার ঝানিপুর গ্রামের কৃষক মজিদুল ইসলাম (৪৫) বলেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এ কারণে ফুলকপির দামে ধস নেমেছে। এবার ৩৫ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করে তিনি অন্তত ১০ হাজার টাকা পুঁজি হারিয়েছেন।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, চলতি মৌসুমের শুরুতে সব ধরনের সবজির ভালো দাম ছিল। তখন চাষিরা বেশ দাম পেয়েছেন। বাজারে চাহিদার থেকে উৎপাদনের বা সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় শীতকালীন সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে এতে সার্বিকভাবে কৃষকের লোকসান হওয়ার কথা নয়।
ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জেও ফুলকপির একই অবস্থা। ঈশ^রগঞ্জ পৌর এলাকার সবজি বাজারে ফুলকপি বিক্রি করতে নিয়ে যাওয়া কয়েকজন কৃষক জানান, বাজারে ফুলকপি এনে সেভাবে দাম পাচ্ছেন না। এর ফলে বাধ্য হয়ে ফুলকপি ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ লোকসানে হতাশ হয়ে ফুলকপি গরুকে খাওয়াচ্ছেন। এতে ফুলকপি চাষে আগ্রহ হারিয়েছেন তারা।
পৌর এলাকার দত্তপাড়া গ্রামের খুচরা ফুলকপি বিক্রেতা মাজহারুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে ফুলকপির আমদানি বেশি। এ কারণে দাম কমে গেছে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান বলেন, ‘এ বছর উপজেলায় সবজির ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে সবজির কোনো ঘাটতি নাই। চাহিদার তুলনায় বেশি উৎপাদনের কারণে বাজারে সবজির দাম কিছুটা কম।’