হেফাজতে নির্যাতনের মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ

চট্টগ্রামে যুবককে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পাঁচলাইশ থানার সাবেক ওসি নাজিম উদ্দিন মজুমদারসহ পুলিশের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার অতিরিক্ত চিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার আলোচিত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান। জানা গেছে, মুস্তাকিম নামে এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইডি। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আদালতে নারাজি দেন বাদী। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই আবেদন খারিজ হয়ে গেলে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আবেদন করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর আবেদনটি শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রাখে আদালত।

২০২৩ সালে ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে রোগী ও তাদের স্বজনদের করা আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে বাগবিত-া হয়। এ সময় পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন ওসি নাজিম উদ্দিন নিজের মোবাইল ফোন বের করে বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ধারণ করেন এবং তাদের পরে দেখে নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। এরপর একযোগে সবাই ওসির বিরুদ্ধে হইচই শুরু করেন এবং ভিডিও ডিলিট করার দাবি জানান। মানবিক এই আন্দোলন থেকে মুস্তাকিমকে পেটাতে পেটাতে চমেকের প্রধান ফটকের বিপরীতে এপিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেও তাকে আরেক দফা মারধর করা হয়। কিছুক্ষণ পর এপিকের সামনে থেকে আরও একজনকে ওসি ধরে ভেতরে নিয়ে যান। পাশাপাশি অন্য পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেন।

একপর্যায়ে একজনকে ছেড়ে দিলেও মুস্তাকিমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর ওইদিন রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচলাইশ থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এতে আসামি করা হয় মুস্তাকিমকে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা ও কর্তব্য কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।