কিশোরগঞ্জে ৭৩১ কোটি টাকার বাইপাস প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের কাজ করতেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এত টাকার রাস্তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে কিশোরগঞ্জ শহর ও হাওরাঞ্চলের মানুষ।
জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের যানজট কমাতে এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও হাওর অঞ্চলে নির্বিঘেœ যাতায়াতের জন্য ছয় বছর আগে ৭৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে আট কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণসহ দুই প্রান্তের সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হয়। কিন্তু মূল কাজ শুরুর আগেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে পুরো উন্নয়নকাজ। এতে অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি প্রতিদিনই যানজটে নাকাল হচ্ছেন কিশোরগঞ্জ শহরের মানুষ।
জেলার হাওর অঞ্চলের উপজেলা নিকলী, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও করিমগঞ্জ উপজেলার লোকদের গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের মধ্য দিয়ে রাস্তা অতিক্রম করতে হয়। একইভাবে পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর, কটিয়াদী, বাজিতপুর ও কুলিয়ারচরসহ অন্য উপজেলার লোকদেরও শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে হয় শহরের ভেতর দিয়ে। ফলে সরু পথ ও অতিরিক্ত যানবাহনে জেলা শহরের সড়কগুলোয় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্ট হয়। এর ওপর পর্যটন মৌসুমে বাড়তি যানবাহনের চাপে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। এ নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে জেলা শহরের মানুষের। বাইপাস না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরে যানজটের কারণে নিত্যদিনের চলাফেরাসহ জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। যানজটের কারণে ভালো করে হাঁটা পর্যন্ত যায় না দুর্ঘটনার ভয়ে।
শহরের বয়লা এলাকার বাসিন্দা ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মো. আরজু মিয়া বলেন, দীর্ঘ যানজটের কারণে অনেক সময় মুমূর্ষু রোগী নিয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে অনেকে পথেই মারা যান। ব্যবসায়ীদেরও অনেক ক্ষতি হচ্ছে যানজটের কারণে। বাইপাস সড়কটি নির্মাণ হলে শহরের যানজট কিছুটা হলেও কমে যেত। কিন্তু তার কাজ বন্ধ হওয়ায় এলাকার মানুষ দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘জেলা শহরে যানজট নিরসনে এবং হাওর অঞ্চল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্বিঘেœ যাতায়াতের সুবিধার জন্য ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ৭৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতায় শহরের বাইরে দিয়ে সদর উপজেলার চৌদ্দশত এলাকা থেকে ছয়না এলাকা পর্যন্ত ৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং হাওরের প্রবেশদ্বার চামড়া বন্দর পর্যন্ত আরও ২০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটের কাজ করতেই গত বছরের ৩০ জুন প্রকল্পের সময় শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া খরচ হয়ে গেছে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি। তবে, প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বৃদ্ধির জন্য এরই মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। মেয়াদ বর্ধিত হলে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে বাইপাস সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলাচলকারীরা।