কালু শাহর মাজারে হামলার ঘটনায় মামলা

ময়মনসিংহে হজরত শাহ সুফি সৈয়দ কালু শাহর মিলাদ মাহফিল, সামা কাওয়ালি অনুষ্ঠান ও মাজারে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে খলিলুর রহমান নামে মাজারের এক খাদেম থানায় মামলাটি করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় এক থেকে দেড় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত বুধবার রাত ১০টার দিকে নগরীর থানার ঘাট এলাকায় অনুষ্ঠান চলাকালীন হামলা ও ভাঙচুর চালায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর রাত ৩টার দিকে মাজারে হামলা, ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বুধবার জামিয়া ফয়জুর রহমান (রহ.) মোমেনশাহী বড় মসজিদ মাদ্রাসার ছাত্ররা কাওয়ালি অনুষ্ঠান ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চেয়ার মঞ্চ ভাঙচুর করা হলেও কেউ আহত হয়নি। পরে আবার রাত ৩টার দিকে গিয়ে ছাত্ররা মাজারে ভাঙচুর করেছে।

এদিকে, কাওয়ালি অনুষ্ঠান ও মাজারে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব অনেকেই। রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ময়মনসিংহ জেলা শাখা। সিপিবি ময়মনসিংহ জেলা কমিটির দপ্তর বিভাগের আহ্বায়ক আল আমিন আহমেদ গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, মাজারে দুই দফা হামলা ও ভাঙচুর করেছে মাদ্রাসার উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র নামধারী দুর্বৃত্ত। অতর্কিত মাজারে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা বিক্ষুব্ধ করেছে ময়মনসিংহবাসীকে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ময়মনসিংহ জেলা কমিটি।

ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, ময়মনসিংহ সম্প্রীতির অঞ্চল। ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অনেক নেতাও কবর এখানে আছে। মাজার-ওরস নিয়ে এখানে কখনো হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে না। কালু শাহ (রহ.) ওরসে সামা কাওয়ালি অনুষ্ঠানে ভাঙচুরের পর গভীর রাতে মাজার ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ময়মনসিংহবাসী ক্ষুব্ধ, স্তব্ধ। থানার সামনেই এমন ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই ন্যক্কারজনক আক্রমণের বিচার করা জরুরি।