অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা

ফরিদপুরে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। আর এসব দুর্ঘটনায় গত এক বছরে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন। সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি ট্রেন-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত ও তিনজন আহত হন। স্থানীয়রা বলছেন, জেলায় অরক্ষিত রেলক্রসিং এবং গেটম্যান না থাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।

গতকাল শুক্রবার নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের (নিসআ) ফরিদপুর জেলা শাখা জেলার সব অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে গেট স্থাপনের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। গতকাল বিকেলে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ফরিদপুর জেলা কমিটির সভাপতি আবরাব নাদিম ইতু ও সাধারণ সম্পাদক সালমান রহমান পিয়াল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ফরিদপুরের জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে ৯০ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। প্রতিদিন ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, বেনাপোল, টুঙ্গিপাড়াসহ বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত চলাচল করছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। এসব পথের ফরিদপুর অংশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে ১৫টি স্টেশন। আর এ অংশে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা ২৭টি। এর মধ্যে মাত্র সাতটি রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান থাকলেও ২০টি রয়েছে অরক্ষিত। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এর বাইরেও ফরিদপুর অংশে অন্তত ২৫টি অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন। তাদের মধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলা অংশেই মৃত্যুর সংখ্যা বেশি রয়েছে। তাছাড়া বোয়ালমারী ও ভাঙ্গা অংশেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু হয়ে খুলনা-ঢাকা ও বেনাপোল-ঢাকা পথের ট্রেন ফরিদপুর জেলার ওপর দিয়ে চলাচল করে। ট্রেনে যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এসব রুটের যাত্রীসংখ্যা। কিন্তু এখনো জেলার অনেক স্থানে রেলক্রসিং অরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলক্রসিং অরক্ষিত থাকা, গেটম্যান না থাকার কারণেই মূলত দুর্ঘটনা বাড়ছে। অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে দ্রুত গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানান তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে রেলক্রসিংয়ের কাছে অবৈধভাবে দোকান গড়ে ওঠার কারণে অনেক সময় ট্রেনের আসা-যাওয়া সহজে চোখে পড়ে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ওসি আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল করে এবং মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছে মানুষ। এভাবে গত এক বছরে ২৫ জনের মতো মারা গেছে। এ নিয়ে ২১টি মামলা হয়েছে।

রেলওয়ের রাজবাড়ীর সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধে কাজ করছেন। যেসব স্থানে গেটম্যান নেই সেসব স্থানে গেটম্যান রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে। তবে যেখানে রেলক্রসিং আছে কিন্তু গেটম্যান নেই সেখানে জনসাধারণের একটু সাবধানে চলাচল করা উচিত।