গত বছরের আগস্টে ছাত্র- জনতার গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের ক্ষমতার পতন ঘটে। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অভিযোগ ছিল যে শেখ হাসিনার পতনের পেছনের যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে।
এবার এই অভিযোগকে নাকচ করেছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান।
জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হাত ছিল না বলে জানিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এ অভিযোগকে হাস্যকর বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, এমন অভিযোগ ভারতীয় কর্মকর্তারাও বিশ্বাস করেন না।
গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে (ইস্টার্ন টাইম) হোয়াইট হাউসের রুজভেল্ট রুমে একদল নির্বাচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুলিভান বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ককে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কলকাঠি নাড়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দেন সুলিভান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রাজপথের বিক্ষোভ এবং শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পেছনে মার্কিন ভূমিকার ধারণা এবং অভিযোগ ‘অযৌক্তিক’।
সুলিভান সম্প্রতি ভারত সফর শেষ করে গেছেন।
হিন্দুস্তান টাইমস তার কাছে খালিস্তান আন্দোলনের নেতা গুরুপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যাচেষ্টা, গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্নীতির অভিযোগ, বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পেছনে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে ভারতের ধারণার বিষয়ে জানতে চায়।
এ ছাড়া হিন্দুস্তান টাইমস জানতে চায়—মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ ভারতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি—এই প্রেক্ষাপটে বাইডেন প্রশাসনের অধীনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি নিয়ে তার মন্তব্য কী। পাশাপাশি, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপ স্টেটের নেতৃত্বদানকারী’ হিসেবে বলা হয়, এমন অবস্থান থেকে তিনি কীভাবে এসব প্রশ্নের জবাব দেবেন?
জবাবে সুলিভান বলেন, আমি বিনয়ের সঙ্গে এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করতে চাই যে, আমি ডিপ স্টেটের নেতৃত্বে আছি এবং সেই সঙ্গে এই ধারণাও প্রত্যাখ্যান করব যে, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পেছনে আমেরিকার হাত ছিল। বিষয়টি একেবারেই অবাস্তব। জ্যেষ্ঠ ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমি মনে করি না যে, তারাও এটা বিশ্বাস করেন।