বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা সংস্কারের কথা আগেই বলেছি, আবারও বলছি, আমরা সংস্কার চাই। কিছু কিছু মানুষ আছেন, যারা একটা ভুল বুঝানোর চেষ্টা করেন, আমরা সংস্কারের আগে নির্বাচন চাই। নির্বাচনের জন্য অস্থির হয়ে গেছি। বিষয়টা কিন্তু সেটা না। নির্বাচনটা আমরা কেনো দ্রুত চাই? কারণ, নির্বাচনটা হলে আমাদের যে শক্তি, সেই শক্তি হবে বৃহৎ। সরকার থাকবে, পার্লামেন্ট থাকবে অনেক কিছু শক্তিশালী হবে। যে সংকটগুলো সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো দূর হয়ে যাবে।’
গতকাল শনিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টির প্রথম জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। কাউন্সিলে এবি পার্টির জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের কর্মকা-ের ওপর নির্মাণ করা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে ওই বিপ্লবে নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং আহত ছাত্ররাও অংশ নেন।
এবি পার্টির প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু। জেনারেল সেক্রেটারি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আইনজীবী আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তারা আগামী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবেন। দলটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু ও যুগ্ম আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। মোট ২ হাজার ৮০৬ ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ১ হাজার ৬৮৯ জন। এর মধ্যে ৪৫টি ভোট বাতিল হয়। চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ৪০০ ভোট পান মঞ্জু। চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারি পদের ফল ঘোষণার পাশাপাশি ২১ জন নির্বাহী পরিষদ সদস্যেরও নাম ঘোষণা করা হয়। এবি পার্টির নতুন নেতৃত্বকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাও জানান মির্জা ফখরুল। ২০২০ সালের ২ মে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে এবি পার্টির যাত্রা শুরু হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এ কথাও বলেছি, নির্বাচনের পরে আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ জাতীয় সরকার করতে চাই। সবাই মিলে রাষ্ট্রের সব সমস্যার সমাধান করতে চাই। যারা আমাদের দলে আছেন, অন্যান্য যেসব দলে আছেন, তারা এটা ভাববেন, চিন্তা করবেন। আমি বিশ্বাস করি, অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সমর্থন দিয়েছি, দিয়ে যাচ্ছি। আজকে বাংলাদেশকে নতুন করে নির্মাণ করার যে, স্বপ্ন আমরা দেখছি, সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। হঠকারিতা করে ভুল সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নিয়ে যেন সেই স্বপ্নকে বিনষ্ট না করি। এ বিষয়টা আমাদের সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হ্যাঁ দেশের অবস্থা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে খুব ভালো না, রাজনৈতিক দিক দিয়ে ভঙ্গুর। আমরা সেটাকে সবাই মিলে সমস্যার সমাধান করতে চাই। সবাই মিলে দানবকে ফ্যাসিস্টকে সরাতে পেরেছি। তাহলে আমরা কেনো সত্যিকার অর্থে নতুন সম্ভাবনার রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারব না। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে আমাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে আমাদের কোনো বিভেদ নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশের কিছু মানুষ তারা আজকে বিভিন্নভাবে এই ঐক্যে তারা কিছু ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। আমি জানি সেই চেষ্টা সফল হবে না। আমরা অবশ্যই অসীম সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হব। আজকে একটা পরিবেশ এসেছে, নতুন করে বাংলাদেশকে নির্মাণ করার। আমরা যেন এই পরিবেশটা, এই স্বপ্নটা নষ্ট করে না দেই। এখন যেটা প্রয়োজন, আমাদের সিদ্ধান্তের অটল থাকা। একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাই, বৈষম্য দূর করতে চাই।’
জাতীয় কাউন্সিলে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।