ফরিদপুরের কানাইপুরে এক যুবকের চোখ তুলে পা ভেঙে নির্যাতন চালিয়েছে প্রতিপক্ষরা। এরপর গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ওবায়দুর খান (২৮)। গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে পদ্মা সেতু এলাকায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে বিকেলের দিকে নির্যাতনের শিকার হন তিনি।
নিহত ওবায়দুর কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের বিল্লাল খানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ট্রাক্টর চালক ছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত খাজা বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কানাইপুর বিসিক শিল্প নগরীর কাছে একটি তেলের পাম্পে মোটরসাইকেলের তেল কিনতে যান ওবায়দুর। এ সময় স্থানীয় খায়রুজ্জামান খাজার নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি দল তাকে তুলে নিয়ে ফরিদপুর জুট ফাইবার্সের পেছনে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। ওবায়দুরের দুই চোখে পেরেক দিয়ে খুঁচিয়ে আঘাত করাসহ বাঁ পা ভেঙে ফেলা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যান। ওবায়দুর খানের বড় ভাই রাজীব খান বলেন, ‘থানার এক দারোগার সঙ্গে ওবায়দুরের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। খায়রুজ্জামান খাজা এলাকায় মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। আমার ভাই তার কর্মকা-ের প্রতিবাদ করত। এ ছাড়া খাজা আমাদের বিরোধী পক্ষ। বিভিন্ন সময় তার পক্ষে মেশার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। এসব কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাইকে তুলে নিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়। রাতে ঢাকায় নেওয়ার পথে সে মারা যায়।’
ট্রমা সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাহিরা হোসেন বলেন, ওবায়দুরের দুই চোখ ও মাথায় আঘাতের ফলে মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ ছাড়া তার বাঁ পা ভেঙে ফেলা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল।
ঘটনায় জড়িত থাকা অভিযুক্ত খায়রুজ্জামান খাজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি, ওবায়দুর পুলিশের ইনফরমার হয়ে কাজ করার কারণে তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে।