শিক্ষককে মারধর: ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ 

নরসিংদীতে এক শিক্ষককে মারধরের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের ভাটপাড়া বাজারে পাঁচদোনা-টঙ্গী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। ভুক্তভোগী ভাটপাড়া এনসি গুপ্ত হাই স্কুলের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ময়নাল হোসেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, ভাটপাড়া এনসি গুপ্ত হাই স্কুলের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ময়নাল হোসেন বাড়ি নির্মাণ করছেন। এই বাড়ি নির্মাণ কাজে পাঁচদোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি প্রার্থী জুয়েল ঘোষ চাঁদা দাবি করেন। তিনি বাড়ি নির্মাণ কাজের সামগ্রী সরবরাহ করতে চাইছিলেন কিন্তু ময়নাল হোসেন তাতে রাজি হননি। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাল ছেলেকে নিয়ে মাদ্রাসায় যাচ্ছিলেন। পথে জুয়েলের নেতৃত্বে সোহাগ, ফরিদ মিয়া, রিপনসহ অঞ্জাতরা শিক্ষকের ওপর হামলা করে। এসময় তাকে ও ছেলেকে মারধর করে। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ে জানালে শিক্ষকরা স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে ময়নাল হোসেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাধবদী থানার লিখিত অভিযোগ দেন।

জানা যায়, আজকে সকালে শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে সড়কে নেমে আসেন। তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। এ সময় তারা টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরে দুপুর দেড়টায়  ঘটনাস্থলে এসে সেনাবাহিনী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। পরে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

ভুক্তভোগী সিনিয়র শিক্ষক ময়নাল হোসেন জানান, আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি বাড়ি নির্মাণের কাজ করছি। জুয়েল এসে আমাকে বলে তার কাছ থেকে ইট-বালু-সিমেন্ট-রড নিতে হবে। আমি তাকে বলি যেসব মালামাল লাগবে সেগুলো এনেছি। পরবর্তীতে যা লাগবে তোমার থেকে নেব। তারপরও আমার ওপর হামলা করে। আমি এর বিচার চাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কোনো সুরাহ না পাওয়ায় বিচারের দাবিতে আজকে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় অভিযোগের পর আমরা রাতভর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।