বর্তমানে অল্প বয়সেই অনেকে হাই ব্লাড প্রেসারের সমস্যায় ভুগছেন। আগে যেখানে এটি বেশি বয়স্কদেরই সমস্যা বলে মনে করা হত। এখন তরুণ প্রজন্মও এই সমস্যার শিকার। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, খারাপ খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ এর অন্যতম কারণ। তবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এর জন্য বেশ কয়েকটি কারণ দায়ী হতে পারে, যেমন অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, এবং মানসিক চাপ। এই সমস্যা এড়াতে নিচের ভুলগুলো করা থেকে বিরত থাকুন:
১. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। বেশি তেল ও ফ্যাটযুক্ত খাবার কম খান।প্যাকেটজাত খাবার ও ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যাস যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো । অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হার্টের সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। প্যাকেটজাত খাবার অনেক দিন সংরক্ষণ কারার কারণে তা হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
২. অলস জীবনধারা
নিয়মিত ব্যায়াম না করা উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা যোগব্যায়াম করুন। এতে করে হার্ট ভালো থাকবে ও রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব।
৩. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব
মানসিক চাপ কমানোর জন্য মেডিটেশন বা শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন ও প্রতিদিন নিয়ম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত টেনশন থেকে দূরে থাকুন।
৪. ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন
ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপানের কারণে রক্তনালী সরু বা ছোট হয়ে যায়, যা রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ভালো কোলেস্টরলের মাএা কমায়।
৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে না রাখা
অতিরিক্ত ওজন হলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ওজন বেশি হলে ধমনীতে ব্লাড জমে ব্লক হতে পারে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
৬. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ডিহাইড্রেশন রক্তচাপের সমস্যা বাড়াতে পারে ও হাইড্রেটেড থাকা হৃদপিণ্ডের কার্যক্রম উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন তিন থেকে চার লিটার পরিমান পর্যাপ্ত পানি পান করুন এতে শরীরের দূষিত পর্দার্থ বের হয়ে শরীরকে ডিহাইড্রেট রাখতে সাহায্য করবে।
৭. স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা
রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করুন। সুস্থ হার্টের জন্য খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন জরুরি।সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে এবং এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললে অল্প বয়সে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।