কুষ্টিয়া

বিদ্যালয়ের সভাপতি পদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২৫

কুষ্টিয়া মিরপুরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াতে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

রবিবার (১২ জানুয়ারি) উপজেলার মিটন বুরাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংঘর্ষ হয়।

মিরপুর থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে আমলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মকলেসুর রহমান মুকুল এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা রাশেদ মাহমুদ নাসিরের মধ্যে বিরোধ ছিল। এরই জেরে রবিবার বিকালে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং ৬ জনকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তবে এবিষয়ে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামায়াত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহারের জন্য মুকুলের ওপরে চাপ সৃষ্টি করছিল নাসির। এ নিয়ে বিরোধের জেরে শনিবার রাতে মুকুলকে হুমকি দেয় নাসির। তারই প্রতিবাদে আজ রবিবার বিকেল তিনটার দিকে বুড়াপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। এ সময় নাসিরের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা সেখানে লাঠিসোটা এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

তবে এ বিষয়ে বুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নাসিরের মুঠোফোনে কল দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।

মিরপুর উপজেলা বিএনপির নতুন গঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব রহমত আলী রব্বান বলেন, অনেকেই আজকের দুই পক্ষের হামলা মারামারি নিয়ে রাজনৈতিক বা দলীয় রং লাগাচ্ছেন, যা আদৌ ঠিক না। প্রকৃত তথ্য হলো দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গোষ্ঠীগত বিরোধ ছিল। এর আগেও এই গোষ্ঠীগত বিরোধ হয়, আজকের ঘটনাও ওই ভাবেই ঘটেছে। এর সাথে দলীয় কোনো সম্পৃক্ততা নেই।