শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে করা সামরিক, বেসামরিক সব চুক্তি প্রকাশ করা এবং চুক্তিগুলোর মধ্যে যেগুলো জনস্বার্থবিরোধী, সেগুলো বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যায়, চুক্তি বাতিল করা যাবে না। পুরনো চুক্তি ও প্রকল্প থাকবে অথচ আমরা একটি নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করব, এটা হতে পারে না। আগের সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় বাংলাদেশের জনগণ নিতে বাধ্য নয়।’
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সর্বজনকথার আয়োজনে ‘বাংলাদেশে ভারত রাষ্ট্রের আধিপত্য : স্বরূপ এবং করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। সভা সঞ্চালনা করেন গবেষক মাহা মির্জা।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ভারত প্রসঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আছে। একটা বৃহৎ রাষ্ট্রের পাশে একটা রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্র স্বাধীনভাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে ভারত রাষ্ট্র। এটাই মূল সমস্যা। এই আধিপত্য থেকে বের হতে হলে আধিপত্যের সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো জানতে হবে এবং জনমত তৈরি করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত রাষ্ট্র কৌশলগত কারণে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ভারতের মানুষ সহমর্মিতা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আমরা অবশ্যই সেই সহযোগিতার কথা স্মরণ করব। সেই সঙ্গে ভারত রাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরোধিতা আমরা করব। শেখ হাসিনার আমলে ভারত রাষ্ট্রের কাছে শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ করার কারণ শেখ হাসিনার দরকার ছিল নির্বাচন ছাড়া চিরস্থায়ী ক্ষমতা লাভ করা।’
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এ সরকারের প্রয়োজন সামরিক, বেসামরিক সব চুক্তি জনগণের কাছে প্রকাশ করা। চুক্তিগুলোর মধ্যে যেগুলো জনস্বার্থবিরোধী সেগুলো বাতিল করা।
প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা বাংলাদেশে ভারত রাষ্ট্রের আধিপত্যের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘যে সমঝোতার মধ্য দিয়ে ভারত এবং সে দেশের কিছু ব্যক্তির পুঁজির স্বার্থ পূরণ করা হচ্ছে, সেসব চুক্তি ও সমঝোতা বাতিল করতে হবে।’ সীমান্তে হত্যা নিয়ে বহুপক্ষীয় ফোরামে যাওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। ট্রানজিট চুক্তি, রামপাল চুক্তি, বিদ্যুৎ চুক্তি প্রভৃতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মোশাহিদা সুলতানা বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে ভারতনির্ভরতার স্বরূপ তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ মানুষের আপত্তি উপেক্ষা করে আগের সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় বাংলাদেশের জনগণ মানতে বাধ্য নয়।