চাঁদা না পেয়ে ৪০০ দোকান দখল

গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিতালি মার্কেটের ৪০০ দোকান দখলের অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে। ৫ লাখ টাকা করে চাঁদা না পেয়ে এসব দোকান দখল করা হয়। দখলকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথকভাবে পাঁচটি চাঁদাবাজির মামলা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দোকান মালিকরা।

দোকান মালিক আব্দুল মান্নান বলেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মিতালি মার্কেটের ৮, ৯ ও ১৩ নম্বর ভবনের দোকানপ্রতি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন কমর আলী, তার ছেলে মাসুদ ও বাদশা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তারা বিএনপি নামধারী বহিরাগত কয়েকশ লোক নিয়ে মার্কেটের তিনটি ভবন দখলে নেন। দখলের পর জোর করে দোকানের ভাড়া নিয়ে যাচ্ছেন। দোকন মালিকরা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও আইনি সহায়তা পাননি। নিরুপায় হয়ে পাঁচ দোকান মালিক বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পৃথক পাঁচটি চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলা করার পর থেকে দখলকারীরা তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।

আরেক দোকান মালিক ইমরান হোসেন বলেন, ‘আদালতে মামলা ও থানা পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছি না। ফলে চাঁদাবাজদের বিচারের দাবিতে গত ৯ জানুয়ারি দুপুরে দোকান মালিকরা মার্কেটে বিক্ষোভ মিছিল করি। এ সময় চাঁদাবাজরা আমাদের ধাওয়া দিলে আমরা মার্কেটে আশ্রয় নিই। তখন তারা মার্কেটের সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ করে তালা লাগিয়ে আমাদের আটকে রাখে। পরে সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দোকান মালিক আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মৃত আক্কাস আলীর ছেলে কমর আলী, তার ছেলে বাদশা, মাসুম ও ম্যানেজার রানার নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের সাহেবপাড়া এলাকায় মিতালি মার্কেটের ৮, ৯ ও ১৩ নম্বর ভবনে প্রায় ৪০০ দোকানের পজিশন কেনেন বিভিন্ন জেলার লোকজন। মার্কেটের প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল ইসলাম এসব দোকানের পজিশন বিক্রি করেন। পরে মার্কেট চালু হওয়ার পর পজিশন মালিকরা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে তাদের দোকান ভাড়া দেন। গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত পজিশন মালিকরা ঠিকমতো দোকানের ভাড়া পেতেন। মিতালি মার্কেটে মোট ১৩টি ভবনে ৬ হাজারেরও বেশি দোকান রয়েছে।

চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মাসুম বলেন, ‘পেশিশক্তি খাটিয়ে রফিকুল ইসলাম আমাদের জমি দখল করে এসব ভবন নির্মাণ করেছেন। আমরা আমাদের জমি দখলে নিয়েছি। তাই আমাদের জমিতে নির্মিত মার্কেট ভবনও আমাদের। রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে যারা পজিশন কিনেছেন, তারা অবৈধ মালিক।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, ‘আগে একপক্ষ মার্কেটের দখলে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর আরেক পক্ষ দখল নিয়েছে। কমর আলীর পক্ষ জমির মালিক দাবি করছেন। আর আব্দুল মান্নানের পক্ষ সমিতির কাছ থেকে পশিজন কিনে দোকানের মালিক দাবি করছেন। ৯ তারিখে দোকান মালিকদের আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করি। এ ঘটনায় দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে।’