বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মাঝপথে এসে বিতর্কে জড়িয়েছে দুর্বার রাজশাহী। স্থানীয় ক্রিকেটাররা এখনো তাদের পারিশ্রমিকের ২৫ শতাংশ পাননি। এর ফলে অনুশীলন বয়কটের গুঞ্জন ছড়ালেও রাজশাহীর পক্ষ থেকে সেটি অস্বীকার করা হয়েছে।
১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে সকাল ১০টায় অনুশীলনের সূচি থাকলেও সেটি বাতিল করে ক্রিকেটারদের বিশ্রামের কথা জানানো হয়। তবে জানা যায়, পারিশ্রমিক না পাওয়ার কারণেই অনুশীলন করেননি তাসকিন আহমেদ ও এনামুল হক বিজয়সহ স্থানীয় খেলোয়াড়রা।
রাজশাহীর ইনচার্জ জায়েদ আহমেদ এই অভিযোগ নাকচ করে বলেন, 'বয়কট শব্দটি আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট বা খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে যায়নি। ক্রিকেটাররা ব্যস্ত সূচির কারণে বিশ্রাম চেয়েছিল, আমরা তাদের বিশ্রাম দিয়েছি। পারিশ্রমিকের বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ১৬ জানুয়ারি বিকেলের মধ্যে দেশি ক্রিকেটারদের ২৫ শতাংশ দিয়ে দেওয়া হবে।'
সিলেট পর্বে খেলোয়াড়দের ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিকের চেক দেওয়া হলেও তা ব্যাংকে বাউন্স করে। দলটির মালিক শফিক রহমানের স্ত্রীর দুর্ঘটনার কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানানো হয়।
জায়েদ আহমেদ ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, 'সিলেটে চেক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালিকের স্ত্রীর গায়ে বল লেগে গুরুতর আঘাত পায়। তাকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাংককে নিয়ে যেতে হয়। ফলে ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বেশিরভাগ ক্রিকেটারদের চেক জমা না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল, তবে কিছু ক্রিকেটার ভুল করে জমা দিয়ে ফেলেছিল।'
বিপিএল নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ৫০ শতাংশ, চলাকালীন ২৫ শতাংশ এবং শেষে বাকি ২৫ শতাংশ পরিশোধ করার কথা। তবে রাজশাহীর স্থানীয় ক্রিকেটাররা এখনো কোনো অর্থ পাননি। বিদেশি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা পেয়েছেন মাত্র ২৫ শতাংশ।
১০ দিনের দৈনিক ভাতা (ডিএ) না পাওয়াও স্থানীয় ক্রিকেটারদের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিশ্রমিক আদায়ের বিষয়ে তাদের হতাশা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীর টিম ম্যানেজমেন্ট পারিশ্রমিক পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্রিকেটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।