নতুন কেউ নন, জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকছেন হাভিয়ের কাবরেরাই। বুধবার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এই স্প্যানিশকে ২০২৬ সালে এপ্রিল অবধি রেখে দিচ্ছে ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে বিষয়টি।
জাতীয় দল ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে বুধবার এই জুম সভার মাধ্যমে কাবরেরাকে তৃতীয় মেয়াদে রেখে দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন। সেই ভার্চুয়াল সভা শেষে উপস্থিত এক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২২ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন কাবরেরা। সেটাই ছিল এই স্প্যানিশের প্রথম কোন জাতীয় দলের হয়ে কাজ। এরপর চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর থেকেই শুরু হয় কোচ নিয়ে আলোচনা। আগামী মার্চে এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে কে থাকবেন বাংলাদেশের ডাগআউটে? জাতীয় দল ম্যানেজমেন্ট কমিটির দায়িত্ব নিজের কাছে রাখায় পুরো বিষয়টি নির্ভর করছিল বাফুফে সভাপতির ওপর। নতুন সভাপতি অবশ্য নতুন কাউকে জাতীয় দলের জন্য বেঁছে নেননি। বরং জাতীয় দলকে ভয়ডরহীন ফুটবল খেলতে শেখানো কাবরেরাকেই আরেকটি সুযোগ দিতে চেয়েছেন তিনি। প্রথম দুই মেয়াদে কাবরেরার অধীনে অবশ্য জাতীয় দলের পারফরম্যান্স গ্রাফ বারবার ওঠানামা করেছে। তার অধীনে বাংলাদেশ খেলেছে ২৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। যার মাত্র আটটিতে জিতেছে দল। ড্র করেছে ছয় ম্যাচ, বিপরীতে হেরেছে ১৫ ম্যাচে। জয়ের হার মাত্র ২৭.৫৯ শতাংশ।
হার দিয়ে অভিষেকের পর ২০২২ সালটা কাবরেরার জন্য মোটেই ভালো কাটেনি। সে বছর আট ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জিতেছিল মোটে এক ম্যাচে। ড্র দুই ম্যাচে। হার পাঁচটা। ২০২৩ সালে অবশ্য দারুণ উন্নতি করে বাংলাদেশ। সে বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে দেখেছে দক্ষিণ এশিয়া। দীর্ঘ ১৪ বছর পর দেশকে তিনি তুলে নেন সাফের সেমিফাইনালে। সে বছর কাবরেরার অধীনে সাফ ও বিশ্বকাপ বাছাইসহ ১৩টি অফিসিয়াল ম্যাচ খেলে। যার পাঁচটিতে জিতেছে বাংলাদেশ।চার ম্যাচে। চার ম্যাচে হেরেছে দল। অল্পের জন্য বাংলাদেশ খেলেনি সাফের ফাইনাল। ঘরের মাঠে কঠিণ প্রতিপক্ষ হিসেবেও নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছিল তার দল। ২০২৪ সালে অবশ্য ফের ছন্দপতন ঘটে। আটটি অফিসিয়াল ম্যাচের দুটিতে জিতেছে তারা। বাকি ছয় ম্যাচেই হারতে হয়। এর মধ্যে ভুটানের কাছে থিম্পুতে এবং মালদ্বীপের কাছে ঢাকায় হার দুটি দলের পারফরম্যান্সের নিম্নগামীতার প্রমাণ দিয়েছে।
পরিসংখ্যান হয়তো এই কোচের জন্য খুব বেশি কথা বলবে না, তবে দলের মানসিকতার পরিবর্তনটাই কথা বলবে তার হয়ে। কাবরেরাকে কোচ হিসেবে চান দলের বেশিরভাগ সদস্য। তাদের দাবী, খেলোয়াড়দের সঙ্গে দারুনভাবে মিশে যেতে পারেন কাবরেরা। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনারও অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার। এ সব কিছুই কাবরেরাকে আরেকবার বাংলাদেশে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।
আগামী ২১ মার্চ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বছরের যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। সব কিছু ঠিক থাকলে ভারতের শিলংয়ে হতে যাওয়া সেই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হতে পারেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তারকা হামজা চৌধুরীর। তার মানে তৃতীয় মেয়াদের শুরুতেই কাবরেরা পেয়ে যাচ্ছেন হামজার মতো বড় তারকাকে। ১৫ মাসের পুরোটা সময়ই তার অধীনে বাংলাদেশ খেলবে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে ছয়টি ম্যাচ। যেখানে ঘুড়ে ফিরে তাদের প্রিতপক্ষ হবে ভারত, সিঙ্গাপুর ও হংকং। এছাড়া এ বছর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপও হওয়ার কথা রয়েছে জুন-জুলাইতে।
২০২৫ কে ২০২৩-এর সঙ্গে মেলাতে পারলেই স্বার্থক হবেন কাবরেরা।
নেইমারকে ছাড়া বিশ্বকাপ জিততে পারবে না ব্রাজিল, রোমারিও
নিরাপত্তা শঙ্কায় পরিবার নিয়ে দুবাই পাড়ি দিচ্ছেন জেমস ভিন্স