শো-রুমে গিয়ে দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি হাতিয়ে নেয় তারা

গাড়ির শো-রুমে গিয়ে নামি-দামি ব্রান্ডের প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস কেনার নামে কৌশলে তা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি চক্র। এমন একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় বিলাসবহুল চারটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব গাড়ির মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

গ্রেপ্তার পাঁচ প্রতারক হলেন, জারাক আহমেদ, আবুল কালাম রিফতিয়ার, জামির হোসেন, সজল আহম্মেদ ও আব্দুর রহমান রুবেল। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, ইমদাদুল হক খান নওশাদ একজন গাড়ি ব্যবসায়ী। তার তেজগাঁও আজিজ কোর্ট গ্রাউন্ড ফ্লোরে একটি গাড়ির শো-রুম রয়েছে। এবি ড্রাইভ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারাক আহমেদ ও চেয়ারম্যান জামির হোসেনকে ২৬ নভেম্বর ও ৪ ডিসেম্বর চারটি গাড়ি ডেলিভারি দেন ভাটারার নর্দ্দা প্রগতি স্মরণি এলাকায়। গাড়ি চারটির বাজারমূল্য তিন কোটি টাকা।

পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে গাড়িগুলো ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানায়। একপর্যায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ইমদাদুল হক খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তারা গাড়িগুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছে। এ ঘটনায় গত ৫ জানুয়ারি  ইমদাদুল হক খান জারাক আহমেদ, জামির হোসেনসহ অজ্ঞাত দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার সূত্রে ধরে গত রাতে গুলশান লিংক রোড এলাকা থেকে এবি ড্রাইভ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারাক আহমেদকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কাশিমপুর থানা এলাকা থেকে জামির হোসেনের সহযোগী আবুল কালাম রিফতিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আবুল কালামকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিসি ইবনে মিজান বলেন, জামির হোসেন তাকে একটি টয়োটা এসকোয়্যার মাইক্রোবাস গাড়ি এবং একটি টয়োটা এক্সজিও প্রাইভেটকার তার জিম্মায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় রাখতে বলে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার আফতাবনগর এলাকা থেকে ওই গাড়ি দুটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আরও দুটি গাড়ির কথা জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বলে অন্য গাড়ি দুটির বিষয়ে মো. সজল আহম্মেদ অবগত রয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যে সজল আহম্মেদ ও আব্দুর রহমান রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযুক্তদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ভূইগড় এলাকায় সাইদুর রহমানের কাছ থেকে একটি টয়োটা ভেলফেয়ার জিপ গাড়ি ও একটি টয়োটা হেরিয়ার জিপ গাড়ি উদ্ধার করা হয়।