ফেনীর সোনাগাজীতে কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও হয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুহুরী নদীর বাঁক সোজাকরণ প্রকল্পের কাজ। তবে কাজ বন্ধ থাকার ব্যাপারে জানে না পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কাজ অসমাপ্ত রেখে ঠিকাদার উধাও হয়ে যাওয়ার কারণে আগামী বর্ষায় নদীভাঙনে বসতি ও কৃষিজমি বিলীনের শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর, জামতলা এলাকায় অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের কারণে মুহুরী নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বেঁকে লোকালয় ভাঙনের কবলে পড়ে। নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সোজা করতে এবং মুহুরী নদীর পূর্ব দিকে ভাঙন রোধে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় পাউবো। প্রকল্পের কাজ পায় এআর টিএস নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে কাজ শুরু করে। কিন্তু গত আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৪৫০ মিটার নদী খনন কাজ শেষ না করেই উধাও হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে দ্রুত নদী খননের দাবিতে গত মঙ্গলবার মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, ইতিমধ্যে অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কয়েক গ্রামের মানুষের বাড়িঘর ও সম্পদ বাঁচাতে দ্রুত নদী খননের কাজ শুরু করার আহ্বান জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সোনাগাজীর সেকশন অফিসার আবু মুছা রকি জানান, ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বরাদ্দে ৪৫০ মিটার নদীর ড্রেজিংয়ের কাজ করছে এআরটিএস নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা কেন কাজ করছে না, তা এখনো জানা যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
সোনাগাজীর ইউএনও কামরুল হাসান বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে স্থানীয়দের মানববন্ধনের বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত করেনি। নিজস্ব সূত্র থেকে জানতে পেরেছি নদীভাঙনের কবলে পড়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণ। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের তাগাদা দিয়েছি।’