জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হামলা ও গুলির ঘটনার অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও তার দুই ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এবং রাসেল আহাম্মদ তুহিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায়। একই সঙ্গে মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও ওবায়দুল কাদের এর নাম রয়েছে। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে ১২৪ জনকে। মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে গণহত্যায় নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে শেখ হাসিনাকে, ২ নম্বরে আছেন শেখ রেহানা।
তবে এই প্রথম কোনো মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আবদুল হামিদকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন লতিবাবাদ এলাকার তহমুল ইসলাম (২৭)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে দেশ-বিদেশে অবস্থান করা ১ নম্বর থেকে ২০ নম্বর আসামিরা সারা দেশে গণহত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই মোতাবেক তারা কিশোরগঞ্জে যাতে কোনো আন্দোলন হতে না পারে, সে জন্য ২১-৪০ নম্বর আসামিদের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য ৪১-১২৪ নম্বর আসামিরা শটগান, বন্দুক, পিস্তল, ককটেল, বোমা ও দেশীয় অস্ত্র এবং অর্থ সরবরাহ করে আন্দোলন দমাতে গণহত্যার নির্দেশ দেন। গত বছরের ৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলা চালান আসামিরা। তারা গুলি চালিয়ে মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের আহত করেন। এ ছাড়া গ্রেনেড, ককটেল ও বোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী তহমুল ইসলাম মাজহারুল জানান, তিনি বিএনপির একজন কর্মী। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে আহতদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। আহত অবস্থায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি এখন কিছুটা সুস্থ হওয়ায় মামলা দায়ের করেছেন।
জেলা পুলিশ ও সদর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মোট ১১টি মামলাসহ জেলায় প্রায় অর্ধশত রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪ হাজার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ হাজারের বেশি লোককে আসামি করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, সাবেক রাষ্ট্রতির বিরুদ্ধে মামলা করায় কোনো আইনি বাধা নেই। আইন সবার জন্য সমান, যে কেউ চাইলে মামলা করতে পারেন।