বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত গিলগিট-বালতিস্তানের জনজীবন

গণবিক্ষোভ পাকিস্তানে কোনো অভিনব বিষয় নয়। যখন রাষ্ট্র জনগণের কথা স্বাভাবিকভাবে শুনতে চায় না, তখন তারা নিজেদের বার্তা সরকারকে জানানোর জন্য রাস্তায় নেমে ধর্মঘট শুরু করে এবং স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করে তুলে। গত সপ্তাহ থেকে গিলগিট-বালতিস্তানে ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তেমনভাবেই বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছিল সাধারণ জনতা। 

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা পার্বত্য অঞ্চলের কঠোর শীত উপেক্ষা করে হুনজার কারাকোরাম হাইওয়ে অবরোধ করে; যার কারণে চীনের সাথে বাণিজ্য ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। গিলগিট-বালতিস্তানের অন্যান্য অংশেও অনুরূপ বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দল এবং ব্যবসায়ীরা সবাই এই বিক্ষোভকে সমর্থন করেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্ল্যাকআউট এবং এর ফলে ইন্টারনেট বিপর্যয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনলাইন ব্যবসা এবং বাণিজ্য কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও এই ধরনের গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় অন্যান্য দাবির পাশাপাশি নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ভর্তুকিযুক্ত গমের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন গিলগিট-বালতিস্তানবাসী। 

গিলগিট-বালতিস্তান সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন যে, বিক্ষোভকারীদের "৯০ শতাংশ" দাবি পূরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো "আগামী বছরের" মধ্যে শেষ হবে এবং বিদ্যুৎ সংকট অনেকটা কমে আসবে।

ভৌগলিক কারণে গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের অর্থনৈতিক সুযোগগুলো খুবই সীমিত। আর এর সঙ্গে যখন দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট যুক্ত হয় তখন জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এটা স্পষ্ট যে, রাষ্ট্র গিলগিট-বালতিস্তানের জনগণের চাহিদা পূরণে সাড়া দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে এমন কিছু ব্যবস্থা রয়েছে যার মাধ্যমে এই পাহাড়ি অঞ্চলের সমস্যা সমাধান করা যায়। যেমন— বায়ু এবং সৌরশক্তির ব্যবহার, যা তুলনামূলকভাবে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।