আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) যুগে এসেও কমেনি চিত্রশিল্পীর আঁকা ছবির চাহিদা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাৎক্ষণিক ছবি এঁকে দেওয়া শিল্পীর দেখা মেলে। এবার পূর্বাচলে ঢাকা আন্তর্জাতিক মেলার ২৯তম আসরেও এমন চিত্রশিল্পীদের দেখা মিলছে। পেনসিলের আঁচড়ে সামনে বসিয়ে বা মোবাইল ফোনে তোলা ছবি কিংবা ফটোগ্রাফ দেখে স্কেচে ফুটিয়ে তুলছেন তারা। এ চিত্রশিল্পীরা ১৫ থেকে ২০ মিনিটে যে কারও প্রতিকৃতি এঁকে দিচ্ছেন। মেলার শুরুতে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকায় ব্যস্ততা ছিল না তাদের। দিন যত যাচ্ছে বাড়ছে দর্শনার্থী, সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা।
গতকাল বৃহস্পতিবার মেলা প্রাঙ্গণে কথা হয় নিয়াজ হোসেন নামে এক চিত্রশিল্পীর সঙ্গে। তিনি জানান, ২০ বছর যাবত তিনি এ পেশায় জড়িত। রাজধানীর আগারগাঁওসহ প্রতি বছর মেলাতেই তিনি আসেন। এবার প্রতিদিনই কিছু না কিছু কাজ পাচ্ছেন। দিন যত যাচ্ছে তত তাদের ব্যস্ততা বাড়ছে। তবে শুক্র ও শনিবার বেশি কাজ পাওয়া যায়।
পাশেই ছবি আঁকছিলেন চিত্রশিল্পী রাশেদ মাহমুদ। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আঁকা শিখেছেন। ১০ বছর ধরে আঁকছেন। শখের বশে আঁকা শিখলেও, এখন নিয়েছেন পেশা হিসেবে। ১১ ইঞ্চি বাই ১৬ ইঞ্চি কাগজে সাদাকালো একটি ছবির জন্য তিনি নিচ্ছেন ৬০০ টাকা। ছবির আকার ভেদে ১৬/২২ ইঞ্চি ৮০০ ও ১৮/২৩ ইঞ্চি ১ হাজার টাকা নিচ্ছেন। তবে রঙিন ছবি মেলাতে বসে আঁকা সম্ভব হয় না। এজন্য আগ্রহীদের অগ্রিম অর্ডার করতে হবে। ভোলার চিত্রশিল্পী সীমান্ত সুমন বলেন, অন্যের ছবি আঁকা দেখে দেখে শিখেছেন। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি ছবি আঁকেন। একটি সাদাকালো ছবি আঁকতে ২০ মিনিট লাগে। মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশা করছি সামনের দিনগুলোতে আরও বেশি ছবি আঁকতে পারব। ছুটির দিনে কাজের চাপ বাড়ে।
মেলায় আসা দর্শনার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা সাধারণত ক্যামেরা ও মোবাইলে অহরহই ছবি তুলে থাকি। কিন্তু পেনসিলে নিজের প্রতিচ্ছবি আঁকিয়ে নেওয়ার সুযোগ সবসময় হয় না। সুযোগ পেয়ে আঁকিয়ে নিচ্ছি। কলেজশিক্ষার্থী সুমনা আক্তার বলেন, পেনসিলে আঁকা ছবি স্মৃতি করে রাখতে মেলায় এসে এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি। ১১/১৬ ইঞ্চি সাদা কাগজে ছবি আঁকাতে ৬০০ টাকা নিয়েছে। সময় লেগেছে মাত্র ২০ মিনিট।