প্রশাসনের কোনো দলবাজি চলবে না: ভিপি নুর

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (ভিপি নুর) বলেছেন, শুধু একটি নির্বাচনের জন্য এবং একটি ভোটের জন্য এই গণঅভ্যুত্থান হয়নি। রাষ্ট্র পুনর্গঠন, মেরামত এবং সংস্কারের মাধ্যমে গণ-আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। তাই আকাঙক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্র সংস্কার অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপি বিএনপির লাইনে, জামায়াতে ইসলামি তাদের লাইনে, গণঅধিকার পরিষদ নিজেদের লাইনে চলছে। অনেক জায়গায় মুখোমুখি হয়ে যাচ্ছে। এটা শুভ লক্ষণ নয়। অশুভ লক্ষণ।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ছাত্র, যুব ও গণঅধিকার পরিষদ জেলা কমিটি আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ভিপি নুর বলেন, প্রশাসনে দলবাজি চলবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজনৈতিক দলের বাহিরে থাকবেন। চিকিৎসকরা মানুষের সেবা করবেন, শিক্ষকরা জ্ঞান দিবেন শিক্ষার্থীদের। কিন্তু আমরা কী দেখতে পাচ্ছি সবাই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলে নাম লিখেছে। যা চলবে না। এ জন্য সকল সেক্টরকে ঢেলে সাজাতে হবে। 

নুর বলেন,যে ফ্যাসিস্ট সরকার গণঅভ্যুত্থানে এতোগুলো মানুষকে হত্যা করে রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে, গুলি করেছে এবং বাংলাদেশের মতো স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রকে বিদেশি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছে, সেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার নৈতিক ভিত্তি এবং নৈতিক অধিকার নেই। তাদের এই বাংলার মাটিতে ফিরতে দেওয়া হবে না।
 
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো মুখোমুখি হলে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হবে। আর পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনঃবাসন ঘটবে। যদি কেউ মনে করেন শেখ হাসিনা চলে গেছে, আওয়ামী লীগ চুপচাপ আছে তার মানে এটা না আওয়ামী লীগ হাওয়া হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছরে তাদের তিন কোটি মানুষকে কোটিপতি বানায় দিছে। তারাই আওয়ামী লীগ তারাই সুযোগ পেলে মাঠে নামবে। এটা আমরা চাই না। বর্তমান রাজনৈতিক দল গুলো বিভাজন হলে আওয়ামী লীগ শক্তি পাবে। তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। এ জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে এসে এই সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আইনি, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সকল বৈধতাদানের জন্য একটি ঘোষণাপত্র প্রয়োজন ছিল উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, বিগত দেড় দশকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের যে দুঃশাসন সেটা কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে একটি সংকটে ফেলেছিল। যার ফলে এই গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। এই গণঅভ্যুত্থানের আইনি, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সকল বৈধতাদানের জন্য একটি ঘোষণাপত্র প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর সংবিধান পরিবর্তন হয় এবং পূর্বের সংবিধান স্থগিত করা হয়। এই জায়গায় যদি ঘোষণাপত্র দেওয়া হয় তাহলে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনার আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা শেষে সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করবে। সেটার অধিকাংশ বাস্তবায়নের পর তারা নির্বাচনের পথে হাঁটবে। 

নুর বলেন, বর্তমান সরকারকে গতিশীল করার জন্য জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন করার আহ্বান জানাচ্ছি। জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হলে এই নির্বাচন সবচেয়ে মডেল এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। 

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, গণঅধিকার পরিষদ বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী একটি রাজনৈতিক দল। সামরিক বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় কিংবা সরকারের আনুগত্য কোনো দল নয়। গণঅধিকার পরিষদ আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া একটি দল। বাংলাদেশের বর্তমান যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার। তাই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। 

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)'র সিনিয়র সহ সভাপতি ফারুক হাসান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ খাঁন। 

গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদের সহ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সোহাগ হোসাইনের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উচ্চতর সদস্য হানিফ খান সজিব, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মোন্নাফ, বিভাগীয় সমন্নয়ক ও সহ দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহীম খোকন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, যুব অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল হক, গণ অধিকার পরিষদ নীলফামারী শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, জলঢাকা উপজেলা গনঅধিকার পরিষদের সভাপতি তাইজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন স্বাধীন, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ নীলফামারী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসাইন, জলঢাকা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল আজিজ ও জলঢাকা পৌর ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আশিকুজ্জামান আশিক প্রমুখ।

এর আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে গণঅধিকার পরিষদ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে মিলিত হন।