তিন মাসের চুক্তিতে কলেজ মাঠে রাস্তার নির্মাণসামগ্রী রেখে প্রায় এক বছরেও তা না সরানোয় বিপাকে পড়েছে খাগড়াছড়ির ভাইবোন ছড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে কলেজের ভবন নির্মাণসহ শিক্ষার পরিবেশ। আর শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাও বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সামগ্রীগুলো সরিয়ে না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক মেরামতের কাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবেদ মনসুর কন্ট্রাকশন। একটি ডিজিটাল প্রজেক্টর, অটোবির একটি একটি ডেক্সটপ টেবিল ও কম্পিউটার অথবা ২ লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার শর্তে তিন মাসের চুক্তিতে ভাইবোন ছড়া কলেজ মাঠটি ভাড়া নেয় আবেদ মনসুর কন্ট্রাকশন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাস্তা মেরামতের বালু, পাথর, জেনারেটর, বিটুমিন ট্যাংক, কন্ট্রোল রুম, ডিজেল ট্যাংক, টায়ার সোলড, পেলোডার, গাড়িসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কলেজ মাঠে রাখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তিন মাসের স্থলে ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও কলেজ মাঠে রাখা ওই নির্মাণসামগ্রীগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় বিপাকে পড়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কলেজ মাঠ থেকে রাস্তার নির্মাণসামগ্রীগুলো না নেওয়ার কারণে সরকারি বরাদ্দে পাওয়া একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ কলেজের শীতকালীন খেলাধুলা ও মাঠভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলো করতে পারছেন তারা। এতে কলেজের বিশাল ক্ষতি হচ্ছে। তাই নির্মাণসামগ্রীগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা।
কলেজের অধ্যক্ষ সুবিনয় চাকমা জানান, তিন মাসের চুক্তি করার পর ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্মাণসামগ্রীগুলো সরিয়ে নেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে তাদের। কলেজ মাঠে এই নির্মাণসামগ্রীগুলো থাকার কারণে কলেজে খেলাধুলাসহ বিভিন্ন অসুবিধা হচ্ছে। এজন্য তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি ও ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজন চাকমা বলেন, ‘মূলত খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের চলাচলকারী জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করে কলেজ মাঠটি তিন মাসের জন্য চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক বছরের কাছাকাছি সময়েও কাজটি না করে কলেজ মাঠটি অকেজো করে রেখে দিয়েছে। এ কারণে কলেজ শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এ ছাড়া সরকারিভাবে পাওয়া কলেজ ভবনও করা যাচ্ছে না।’ দ্রুত এগুলো সরিয়ে না নিলে কলেজের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান।