ফরিদপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫০

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুই দল গ্রামবাসী। দফায় দফায় এ সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার সলিথা ও মিরাকান্দা গ্রামবাসীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে সলিথা গ্রামের ওয়াজ মাহফিলে কয়েক তরুণের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় গতকাল ভোরে দুই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ঢাল-সড়কি, কাতরা, রামদা, ছ্যানসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে নগরকান্দা থানার ওসিসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সলিথা গ্রামের বাসিন্দা আকতার হাদি বলেন, ‘ওয়াজ মাহফিলে মিরাকান্দা গ্রামের কয়েক তরুণ মেয়েদের অশ্লীল ভাষায় টিজ করে। এ সময় আমাদের গ্রামের লোকজন বাধা দিলে তারা এক ছেলেকে মারধর করে। এরপর সকালে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সলিথা গ্রামের লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা বেশ কয়েকজনকে আহত করে এবং কয়েকটি বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।’

মিরাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান বলেন, ‘সলিথা গ্রামের ওয়াজ মাহফিলে আমাদের গ্রামের ছেলে নাঈমকে মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই গ্রামবাসী। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও থানা-পুলিশের সহযোগিতায় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান সাকিল জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে নগরকান্দা থানার ওসি সফর আলীসহ কয়েকজন আহত হয়।

এদিকে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সোনাতনপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সকালে সদর উপজেলার ফুলসন্দি ইউনিয়নের সোনাতনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর।

স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের ফুয়াদ বিশ্বাস ও রানা মেম্বারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল সকালে ফুয়াদের সমর্থক খেজমত আলী ও তার ছেলে নবাবকে গ্রামের মাঠে মারধর করে রানার সমর্থকরা। এরই জেরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর।