ওষুধের ভ্যাট প্রত্যাহার হবে আমার বিশ্বাস

ওষুধের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) কমানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। তিনি বলেছেন, দেশের সার্বিক অবস্থা স্বাভাবিক রাখতেই বিভিন্ন খাতে ভ্যাট বৃদ্ধি করা হয়। তবে ওষুধের বিষয়ে আমরা প্রথমেই আলোচনা করেছিলাম। আশা করি অর্থ মন্ত্রণালয় তা বিবেচনা করবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

এ সময় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ওষুধে খুব কম পরিমাণ ভ্যাট আরোপ করার কথা বলা হয়েছিল। আমরা সে সময়ই আপত্তি করেছিলাম। কিন্তু যিনি অর্থ উপদেষ্টা তিনি তো সারা দেশের আর্থিক বিষয়টা দেখেন।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব নিলাম তখন ডলারের অনেক সংকট ছিল। আমাদের অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করতে হয়েছে। তবে ওষুধের ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে বলেই আমার বিশ্বাস। কারণ আমরা কেবিনেটে এটা নিয়ে আলাপ করেছি।

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাগিয়ে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ওষুধের ওপর ভ্যাট ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হয়। পরে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দেয় ওষুধ শিল্প সমিতি। ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে সোচ্চার হয় সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় পর্যায়ে ওষুধের দোকানে বা ফার্মেসিতে ওষুধের ওপর আরোপিত সর্বশেষ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) অপসারণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তিনি বিষয়টি সমাধানের ব্যাপারে আশাবাদী বলেও মন্তব্য করেন। সর্বশেষ গতকাল স্বাস্থ্য উপদেষ্টাও অনুরূপ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের চেষ্টা : ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, জনগণ যদি বলে কাল আপনারা দায়িত্ব দিয়ে চলে যান আমরা চলে যাব। আমরা দায়িত্ব নিয়ে এসেছি, দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। জনগণ চাইলে আমরা থাকব, জনগণ না চাইলে চলে যাব। আর আমাদের প্রধান উপদেষ্টা তো একটা রোডম্যাপ বলে দিয়েছেন, আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার চেষ্টা করব। তারপরও যদি নানা সংস্কারের কথা আসে; জনগণ যদি মনে করে আমাদের আরও কিছু দিন কাজ করে যেতে হবে। সেখানেই উনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন জুন পর্যন্ত।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভঙ্গুর : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। যে কোনো জায়গায় আমাদের চাহিদা কত সেটি যদি নিরূপণ করতে পারি তা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আমার কোথায় কোন ডাক্তার লাগবে সেটা চাহিদা অনুযায়ী করতে হবে। আমাদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব রয়েছে। আমরা যদি সত্যি সত্যি ভালোভাবে মেডিকেল কলেজ ও ভালো ডাক্তার তৈরি করতে পারতাম তাহলে স্বাস্থ্য সেক্টরে ম্যানপাওয়ারের চাহিদা মিটত। হাসপাতালে লোকবল দিতে পারছি না। কিন্তু ভবন বানানো হয়েছে।

চিকিৎসা খাতে যেসব সংকট আছে তা নিরসনে কাজ চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অনেকগুলো সংস্কারের বিষয় আছে। সংস্কার কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সেগুলো সংস্কার করা হবে।

এ সময় উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রায় সাড়ে ৪শ জন চোখ হারিয়েছেন। আন্দোলনে যারা আহত, নিহত হয়েছেন কিংবা সে সময় যারা গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তাদের ত্যাগকে সবসময় মনে রাখারও আহ্বান জানাই।