কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের উদ্দেশে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে ছেড়ে আসা প্রায় ৫০ হাজার বস্তাভর্তি চারটি পণ্যবাহী জাহাজ দেশটির বিচ্ছিন্নবাদী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে তিন দিন ধরে আটকা রয়েছে। জাহাজগুলোতে আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার পণ্য।
গত শুক্রবার দুপুরে দুটি ও এর আগের দিন আরও দুটিসহ চারটি পণ্যবাহী জাহাজ মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মি আটক করে রাখে। গতকাল শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত পণ্যবাহী জাহাজগুলো আরাকান আর্মির কাছ থেকে ছাড়া পায়নি বলে জানিয়েছেন টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
এ বিষয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহদুর বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার দুটি, শুক্রবার দুটিসহ মোট চারটি পণ্যবাহী জাহাজ মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসার সময় আরাকান আর্মি টেকনাফ জেটি ঘাটের ওপারের মিয়ানমার সীমান্তে আটকে দেয়। এরপর থেকে আজ তিন দিন হচ্ছে, এখনো পণ্যবাহী জাহাজ চারটি আরাকান আর্মি ছেড়ে দেয়নি। জাহাজগুলো আরাকান আর্মি আটকের বিষয়ে আমাদের বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি অবগত করেছি। সেগুলো ফেরত আনার বিষয়ে তারা চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আটক জাহাজে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আনুমানিক ৩০-৪০ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। এমন ঘটনায় বন্দরের আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
এ ব্যাপারে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গত ৩ ডিসেম্বরের পর থেকে এই বন্দরে বড় কোনো ট্রলার আসেনি। ছোটখাটো একটি ট্রলার ভিড়লেও এবারই প্রথম বড় চারটি ট্রলার আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই ট্রলারগুলোও আরকান আর্মি তিন দিন ধরে আটকে রেখেছে।
তিনি আর বলেন, ট্রলারে সুপারি, আচার, শুঁটকিসহ নানা ধরনের ৫০ হাজার বস্তা পণ্য রয়েছে খবর পেলেও পণ্যগুলো কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আনছে জানতে পারিনি।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, লোকমুখে আরাকান আর্মির ট্রলার আটকে রাখার খবর শুনে আমরা সিঅ্যান্ডএফের কাছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা ও পণ্যের কাগজপত্র চেয়েছিলাম। কিন্তু এখনো আমরা সেসব কাগজ পাইনি। তবুও আমরা আমাদের নৌসীমান্তে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছি।