মুলতানে দুদিনের মধ্যেই দফা রফা হয়ে গেছে উইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্টের। পাকিস্তানের অফস্পিনার সাজিদ খান অসাধারণ নৈপুণ্য দলের ১২৭ রানের বিশাল জয়ের পাশাপাশি এনে দিয়েছে ম্যাচসেরা হওয়ার সম্মান। প্রথম ইনিংসে ৪টির পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি শিকার করেছেন আরও ৫ উইকেট। যার মধ্যে ১৭ বলের ব্যবধানে তিনি ফিরিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার ব্যাটসম্যানকে।
মুলতানে সাজিদের ঘুর্ণিজাদুর ছোঁয়ায় যেন জীবন এসে গিয়েছিল বলে। নতুন বল যেন তার প্রতিটি আদেশ মান্য করে চলছিল ইনিংস জুড়ে। সুনির্দিষ্ট লাইন, লেন্থ এবং সূক্ষ্ম বৈচিত্র্য উইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করে ছেড়েছে। সাজিদের স্পিন আর নতুন বলে বাউন্স করানোর সক্ষমতার কাছে পরাস্ত হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ১২৩ রানেই গুটিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এমন অসাধারণ নৈপুণ্য সাজিদের স্পিন দক্ষতার সঙ্গে পাকিস্তানি বোলিং আক্রমণের স্পিনারদের গুরুত্বকেও ফুটিয়ে তুলেছে বহু গুণে। ম্যাচের পুরো ২০টি উইকেটই নিজেদের ঝুলিতে ভরেছেন সাজিদ, আবরার আহমেদ ও নোমান আলিকে নিয়ে গড়া স্পিনত্রয়ী।
সাধারণত নতুন বলে স্পিন করানো কিছুটা কঠিন কাজ। কিন্তু মুলতান টেস্টে এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়েছেন সাজিদ। একের পর এক উইকেট তুলেছেন, দিয়েছেন গোঁফে তা এবং করেছেন পা তুলে কাবাডি স্টাইলে নিজের সিগনেচার উদযাপন। তার উদযাপন দেখে অনেকে ভয়ও পেয়ে যান। এ বিষয়ে সাজিদ বলেন, ‘আমি তো কাউকে ভয় দেই না। সৃষ্টিকর্তা আমাকে এভাবেই তৈরি করেছেন যে আমি হাসলেও মানুষ ভয় পেয়ে যায়।’ যার অমন জাদরেল গোঁফ আর টেকো মাথা রয়েছে তার উদযাপনে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিকই। তবে একজন সাজিদ খানের পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান স্পিনারে পরিণত হওয়ার গল্পটি যে গাঁথা কঠোর পরিশ্রম এবং নিষ্ঠার অক্ষর দিয়ে। ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেকের পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ জয়ী পারফরম্যান্স দিয়ে যাচ্ছেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি প্রথমবারের মতো টেস্টে দশ উইকেট শিকার করেন। প্রথম ইনিংসে তার সেরা বোলিং ফিগার ছিল ৮/৪২।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তার পাকিস্তান দলের অপরিহার্য খেলোয়াড় হিসেবে তার অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। সাজিদ বলেছেন, ‘একজন অফ স্পিনার হিসেবে আমার বোলিং স্টাইলটা একটু জটিল। আমি চাইলেও এখানে অনেক কিছু যোগ করতে পারবো না। পেশোয়ারে আমার কোচ জোহাইব খানের সঙ্গে নতুন ডিউক বল নিয়ে লম্বা সময় কাজ করেছি। আমার চেষ্টাই ছিল কীভাবে রানের খাতা আটকে রাখা যায়।’ নিজের পরিকল্পনায় সফল হয়েছেন সাজিদ। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং নতুন বলে তার দক্ষতার জন্য সাজিদ খান পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলেও আশা করছে ক্রিকেটবিশ্ব।
২৫ জানুয়ারি একই মাঠে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামবে দুদল। সেই টেস্টেও সাজিদের ঘূর্ণিজাদুর অপেক্ষায় রইবে মুলতানের মাটি।