নম্রতা ও কোমলতা মানুষের অন্যতম মহৎ গুণ। এমন গুণের অধিকারীদের সবাই পছন্দ করে। কোমলতা ও নম্রতার স্বভাব মানুষের জন্য অনেক কল্যাণ বয়ে আনে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে কোমলতা থেকে বঞ্চিত, সে কল্যাণ থেকেও বঞ্চিত।’ (সহিহ মুসলিম)
কোমলতা ও নম্রতা মহান আল্লাহর পছন্দনীয় গুণ। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা কোমল ও নম্র। তিনি কোমলতা ও নম্রতা পছন্দ করেন। আর তিনি নম্রতার কারণে যা দান করেন, তা কঠোরতা কিংবা অন্য কোনো কারণে দান করেন না।’ (সহিহ বুখারি) অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আয়েশা (রা.)-কে বলেন, ‘তুমি কোমলতা ও নম্রতা নিজের জন্য আবশ্যক করে নাও। কঠোরতা ও নির্লজ্জতা থেকে নিজেকে বাঁচাও। যে জিনিসে নম্রতা ও কোমলতা থাকে, সেটাই তার সৌন্দর্যের প্রতীক হয়। আর যে জিনিস হতে তা প্রত্যাহার করা হয়, তা ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায়।’ (মিশকাত)
রাসুলুল্লাহ (সা.) সবসময় নম্রতা প্রদর্শন করতেন। কেউ তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলেও তিনি কারও ব্যাপারে নম্রতা ও কোমলতা পরিত্যাগ করতেন না। এ কোমলতা আল্লাহতায়ালার রহমতেরই বিশেষ ফলস্বরূপ। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘(হে নবী!) আল্লাহতায়ালার রহমতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছেন। পক্ষান্তরে আপনি যদি রূঢ় প্রকৃতির ও কঠিন হৃদয়ের হতেন, তাহলে তারা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমাপ্রার্থনা করুন।’ (সুরা আলে ইমরান ১৫৯)
এ আয়াতে দুটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এক. এখানে কোমলতা ও নম্রতাকে আল্লাহতায়ালার বিশেষ রহমত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সুতরাং এখান থেকে বুঝা গেল, নম্র ও কোমল কেবল সে ব্যক্তিই হতে পারে, যার মধ্যে আল্লাহতায়ালার বিশেষ রহমত রয়েছে। দুই. রাসুল (সা.)-কে উদ্দেশ্য করে এই আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, এই কোমলতা, সদ্ব্যবহার, ক্ষমা প্রদর্শন, দয়া ও করুণা করার গুণ যদি আপনার মধ্যে না থাকত, তাহলে মানুষের সংশোধনের যে দায়িত্ব আপনার ওপর অর্পণ করা হয়েছে তা যথাযথভাবে সম্পাদিত হতো না। মানুষ আপনার মাধ্যমে আত্মসংশোধন ও চারিত্রিক সংস্কার সাধনের উপকারিতা লাভ করার পরিবর্তে আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত। সুতরাং এখান থেকে বোঝা যায়, কাউকে কোমল ও নম্র আচরণে যতটা সংশোধন করা যায়, কঠোর আচরণে তা করা যায় না। কঠোর আচরণের দ্বারা আশপাশের মানুষজন ধীরে ধীরে ব্যক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, দূরে সরে যায়। তাই মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে কোমল আচরণের অধিকারী হওয়া অত্যাবশ্যক। আল্লাহতায়ালা আমাদের নম্র ও কোমল হৃদয় দান করুন। আমিন।