নেকাব পরে টকশোতে অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় চ্যানেল আইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক বিশেষ সেলের সহ-সমন্বয়ক নাফিসা ইসলাম সাকাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অভিযোগ তুলে ধরেছেন। ওই অভিযোগের পর সমালোচনা শুরু হলে এক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে টেলিভিশন কর্র্তৃপক্ষ। তবে নাফিসা ইসলাম চ্যানেল আইয়ের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, ঊর্ধ্বতন কারও কমান্ড পালনের জন্য কেউ চাকরি হারাতে পারেন না।
নাফিসার দাবি অনুযায়ী, গত শনিবার বেলা ৩টায় একটি টকশোতে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি চ্যানেল আইয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানান যে, তিনি নেকাব পরে টকশোতে অংশগ্রহণ করবেন। তবে পরে তাকে জানানো হয়, নেকাব পরে টকশোতে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। এ ঘটনায় নাফিসা ফেসবুকে পোস্ট করলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই তার পোস্ট শেয়ার করে প্রতিবাদ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে চ্যানেলটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে সহকারী প্রযোজক (অনিয়মিত) আতোয়ার শিকদারকে অব্যাহতি দেয় চ্যানেল আই কর্র্তৃপক্ষ।
তবে আতোয়ার শিকদারকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন নাফিসা ইসলাম। চ্যানেল আইয়ের ওই কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়ার পরপরই নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি। ওই পোস্টে তিনি বলেন, ‘আতোয়ার শিকদার ভাইয়ের চাকরি চলে গেছে। কিন্তু এখানে আদৌও তার কোনো দোষ ছিল? আমি কি আতোয়ার ভাইকে নিয়ে কথা বলেছি নাকি সিস্টেমটা নিয়ে কথা বলেছি? আমি আতোয়ার শিকদার ভাইয়ের সঙ্গে আছি। ঊর্ধ্বতন কারও কমান্ড পালনের জন্য তিনি চাকরি হারাতে পারেন না।’
নাফিসা ইসলাম সাকাফির এ স্ট্যাটাসের পরিপ্রেক্ষিতে পোস্ট করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম আহ্বায়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। রবিবার দুপুরে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন রাখেন, মিডিয়া থেকে ইসলামফোবিয়া কবে যাবে?