গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রী মৌমিতা আক্তার লতাকে হত্যা মামলায় স্বামী নুর মো. ওরফে নয়নকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়। বিয়ের আট মাস পর স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ এস এম নাসিম রেজা এই রায় দেন। রায়ের সময় আদালতে আসামি উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত নুর মোহাম্মদ ওরফে নয়ন (২৯) সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পুর্ব সোনারায় গ্রামের আব্দুল মতিন মিয়ার ছেলে। নিহত মৌমিতা আক্তার লতার (২৩) বাড়ি পার্শ্ববর্তী চাচীয়া মীরগঞ্জ গ্রামে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি মাসুদার রহমান মাসুদ। তিনি জানান, গৃহবধু মৌমিতা হত্যা মামলায় আদালতে দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারকার্য শেষে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন বিচারক। আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
মামলার বরাত দিয়ে জেলা জজ আদালতের (জিআর) শাখা উপ-পরির্দশক (এসআই) শুভ্র জানান, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে নয়নের সঙ্গে বিয়ে হয় মৌমিতা আক্তার লতার। এরই মাঝে তাদের পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। যৌতুকের জন্য মৌমিতা আক্তারকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন স্বামী নয়ন। একপর্যায়ে যৌতুকের টাকা না পেয়ে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মৌমিতা আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী। পরে খবর পেয়ে মৌমিতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা গোলেনুর বেগম বাদি হয়ে নয়নের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতে পিটিশন মামলা করেন।