জনগণের সমর্থন পাওয়ার পর দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের সমর্থন পাওয়ার পর দেশকেও পুনর্গঠন করতে হবে। দেশকে পুনর্গঠনের জন্য রাষ্ট্রকে মেরামত করতে আমরা ৩১ দফা মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছি। সেটিকে বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই দলকে ঐক্যবদ্ধ পুনর্গঠিত করতে হবে।’ গতকাল সোমবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি’র উদ্বোধনকালে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ২০ টাকা (ব্রিটিশ মুদ্রায় ১৫ পেন্স) দিয়ে নিজের প্রাথমিক সদস্য পদ নবায়ন করেন। তারেক রহমান সদস্য ফরম পূরণ করে সদস্য নবায়ন ফিসহ ইমেলে পাঠান।

তারেক রহমান বলেন, ‘যারা মেধাবী মানুষ, পরিশ্রমী, সততা, আদর্শ আছে তাদের ঐক্যবদ্ধ করে দলের কাছে নিয়ে আসতে হবে, দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। আগামী দিনে আমাদের ভালো মানুষ দরকার, অ্যাফেক্টিভ মানুষ। কারণ এই রাষ্ট্রটিকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার ধ্বংস করে দিয়েছে, অনেক পেছনে নিয়ে গেছে। কাজেই দলকে যদি পুনর্গঠিত করতে হয় সে রকম মানুষ দরকার। সে রকম মানুষকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। মেধার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।’

এ সময় সঙ্গে মঞ্চে বসা দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও ফরম পূরণ করে তাদের সদস্য পদ নবায়ন করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকের দিন বিএনপির নেতাকর্মীদের আনন্দের দিন। আজকে যে কর্মসূচি শুরু করলাম, আমার সামনে যে নেতাদের দেখতে পারছি। এখানে আমাদের যুগ্ম মহাসচিবরা আছেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা আছেন। আপনাদের মাধ্যমে আমাদের এই সাংগঠনিক কর্মসূচি সাকসেসফুল করতে হবে। আপনাদের দিকে দল থাকিয়ে আছে। আপনারা জেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যায়ের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ করবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়ে আপনারা সবাইকে সংগঠিত করে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচিগুলো সফল করেছিলেন, একইভাবে এই কর্মসূচিও আপনারা সফল করবেন।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের তৃণমূলকে সংগঠিত করতে হবে। এখন বেশি করে কাজ করতে হবে। বিশাল কাজ আমাদের সামনে আছে। আসুন যে উৎসাহ, দেশপ্রেম নিয়ে আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গুম-খুনের পরেও শত অত্যাচার-নির্যাতনের পরেও দমে যাইনি, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, ঠিক একইভাবে আবার দলকে পুনর্গঠিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। এই দলকে যত শক্তিশালী পুনর্গঠিত করতে পারব, আগামী দিনে আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে রাষ্ট্র দ্রুত মেরামত ও পুনর্গঠন করতে পারব।’ তিনি বলেন, ‘আমি ফরম পূরণ করে এখানকার মুদ্রায় ১৫ স্পেনসহ পাঠিয়েছি।’ ষষ্ঠ জাতীয় পির সর্বশেষ প্রাথমিক সদস্য পদ নবায়নের কর্মসূচি হয়েছিল দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মাধ্যমে।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের এখন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। আমাদের কর্মীরা কেন জানি না রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। গতকাল আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর দিবস পালন হলো। এখানে আমাদের কর্মীরা যারা আসেন সাধারণত ভাইদের পেছনে আসেন। এসে সেই ভাইদের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। তারপর সেøা কাউন্সিলের পর ২০১৭ সালে বিএনপির সর্বশেষ প্রাথমিক সদস্য পদ নবায়নের কর্মসূচি হয়েছিল দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মাধ্যমে।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের এখন প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে। আমাদের কর্মীরা কেন জানি না রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। গতকাল আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর দিবস পালন হলো। এখানে আমাদের কর্মীরা যারা আসেন সাধারণত ভাইদের পেছনে আসেন। এসে সেই ভাইদের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। তারপর সেøাগান দেয় পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণ। এটা রাজনীতি না। ইট ক্যান নট বি পলিটিকস। দেখুন রাজনৈতিক কর্মীর মুখ থেকে এ ধরনের স্লোগান আসা উচিত নয়। আমাদের এক জায়গায় চরম দৈন্য আছে। এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা যারা রাজনৈতিক নেতৃত্ব করছি, আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব উদ্যোগ নেবেন। এখন পর্যন্ত যত ভালো কাজ হয়েছে চেয়ারম্যান সাহেব উদ্যোগ নিয়েছেন। এখন প্রত্যেকটি উপজেলা এবং জেলাতে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। এটা জরুরি। বিএনপিকে আদর্শ দলে পরিণত করতে হবে, মেধার নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। শুধু স্লোগান দিয়ে আমরা সামনে আরও যুদ্ধ জয় করতে পারব না।’

প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, রুহুল কবির রিজভী ও রশিদুজ্জামান মিল্লাত বক্তব্য রাখেন। প্রাথমিক সদস্য পদ নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, মাহবুবে রহমান শামীম, শামা ওবায়েদ, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলমসহ সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিত সম্পাদক, মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপি, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।