প্রতিবেশী কূটনীতিতে বাংলাদেশ সবসময় গুরুত্বপূর্ণ: চীন

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সোমবার (২০ জানুয়ারি) চীন সফরে গেছেন। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বেইজিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকে বেইজিংয়ের আন্তঃদেশ সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বেল্ট অ্যান্ড রোড কো-অপারেশনকে (বিআরসি) আরও উচ্চমানসম্পন্ন করতে পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ককে গভীর করার অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ।

এ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে চীনের দৈনিক দ্য চায়না ডেইলি। বৈঠকের পর একটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানেও উল্লেখ করা হয়েছে এ তথ্য।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন— বাংলাদেশের জনগণের পছন্দকে সম্মান করতে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী চীন। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াই ই বলেছেন— চীন ও বাংলাদেশ ভালো প্রতিবেশী, যারা একে অন্যকে সাহায্য করে এবং ভালো অংশীদার, যারা সাধারণ উন্নয়ন চায়। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ৫০ বছরে উভয়পক্ষ সর্বদা একে অন্যকে সম্মান করেছে, একে অন্যকে সমানভাবে বিবেচনা করেছে। উভয়ের জন্যই উইন উইন ফলাফলের জন্য সহযোগিতা করেছে, যা দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্কের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন সর্বদা বাংলাদেশকে তার প্রতিবেশী কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকে রেখেছে এবং সব বাংলাদেশি জনগণের জন্য সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বের নীতি অনুসরণ করেছে। এই বছর চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী, এটি ‘চীন-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময় বছর’ হিসেবেও পরিচিত এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন নতুন সুযোগের মুখোমুখি হচ্ছে।

ওয়াং ই বলেন, চীন বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব অব্যাহত রাখতে, কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার, বাস্তবসম্মত সহযোগিতা গভীর উচ্চমানের সঙ্গে যৌথভাবে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ নির্মাণ এবং চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্বের ধারাবাহিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশকে তার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষা, তার জাতীয় অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়নের পথ অন্বেষণ, বাংলাদেশি জনগণের পছন্দকে সম্মান এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চীন সংস্কারকে আরও গভীর করছে এবং চীনা-ধাঁচের আধুনিকীকরণকে উৎসাহিত করছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য নতুন সুযোগ দেবে। চীন ও বাংলাদেশ উভয়ই উন্নয়নশীল দেশ, যাদের বিস্তৃত অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে।

গত আগস্টে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হওয়ার পর এটিই তৌহিদ হোসেনের প্রথম চীন সফর। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র আমন্ত্রণে সোমবার সে দেশে সফরে যান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বেইজিং সফর শেষে সাংহাই যাবেন। তিন দিনের সফর শেষে ২৪ জানুয়ারি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশে ফিরবেন।