গণতান্ত্রিক উত্তরণে বাংলাদেশকে সমর্থন সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলজ। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জার্মান চ্যান্সেলর এই প্রতিশ্রুতি দেন।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে তাদের বৈঠক সংক্রান্ত একটি পোস্ট ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরকে অবহিত করেন প্রধান উপদেষ্টা। সেসময় ওলাফ শলৎস বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।’
প্রধান উপদেষ্টা জার্মান চ্যান্সেলরকে জানান, তিনি একটি ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা ছয় কমিশনের জমা দেওয়া সংস্কার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই-আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের গণতান্ত্রিক চেতনাকে সমুন্নত রাখবে এমন একটি সনদ স্বাক্ষরিত হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাতে দুই নেতা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যার মধ্যে ছিল জুলাই আন্দোলনের কারণ, বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, এবং মিয়ানমারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
কীভাবে তরুণরা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে বছরের পর বছর ধরে চলা বাংলাদেশের ‘অপশাসনের অবসান ঘটাতে চেয়েছিল, সে কথা জার্মান চ্যান্সেলরকে বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ১২ বছর বয়সী এক ছাত্র তার মাকে চিঠি লিখে আন্দোলনে যোগ দেয় এবং শহীদ হয়।
ইউনূস দুই দেশের মধ্যে আরও দৃঢ় ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সুযোগ অন্বেষণের জন্য জার্মান ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জার্মান বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে আরও সুযোগ রয়েছে। আমরা হতে পারি আপনাদের কারখানা।’
একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরির জন্য জার্মান চ্যান্সেলরের সহায়তা কামনা করেন।
শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে প্রত্যর্পণ চুক্তির লঙ্ঘন হবে